ঢাকার ৭টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক। কিউআর কোডভিত্তিক এ উদ্যোগে আসছে স্বচ্ছতা।
রাজধানী ঢাকা-তে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্তৃপক্ষ সোমবার (২০ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
যেসব পাম্পে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো—
- সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন
- ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন
- গুলশান সার্ভিস স্টেশন
- মেঘনা মডেল পাম্প
- নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার
- খালেক সার্ভিস স্টেশন
- তালুকদার ফিলিং স্টেশন
এই স্টেশনগুলোতে এখন থেকে কিউআর কোড স্ক্যান ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।
‘ফুয়েল পাস’ কী এবং কীভাবে কাজ করবে
‘ফুয়েল পাস’ একটি ডিজিটাল অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীর যানবাহন ও জ্বালানি গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ করে।
প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড তৈরি করা হবে, যা স্ক্যান করে জ্বালানি প্রদান করা হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কেন এই উদ্যোগ
সরকার বলছে, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে—
- জ্বালানির অপচয় কমবে
- অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আসবে
- প্রকৃত ব্যবহারকারীদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেস তৈরি হবে
এছাড়া ভবিষ্যতে এই ডাটাবেস নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন
এর আগে সীমিত পরিসরে এই অ্যাপের পাইলট কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
মোটরসাইকেল চালকদের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর সেটিকে এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের আইসিটি শাখা জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই সাতটি পাম্পে সফল বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে পুরো দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ব্যবহারকারীদের জন্য করণীয়
মোটরসাইকেল চালকদের ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে এবং নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের যানবাহনের তথ্য যুক্ত করতে হবে।
এরপর প্রতিবার জ্বালানি নেওয়ার সময় কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এতে করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের জ্বালানি ব্যবহারের হিসাবও সহজে রাখতে পারবেন।
