দেশে হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৫৬৪। টিকাদান ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে বাড়ছে ঝুঁকি।
দেশে আবারও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাম পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৪ শিশু, যা এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্ত ১,৫৬৪ শিশুর মধ্যে ১৪৩ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১,৪২১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মৃত্যু ও আক্রান্তের সামগ্রিক পরিসংখ্যান
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হাম সন্দেহে মারা গেছে আরও ২১৬ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ২৮ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬০৩।
ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিতে
মৃত্যুর হার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা বিভাগ। এখানে হাম সন্দেহে ১০২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ২৮ শিশু।
এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তবে তুলনামূলকভাবে ঢাকায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক।
কেন বাড়ছে হাম?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং করোনাকালীন সময়ের টিকা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
World Health Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই টিকা নেয়নি বা অসম্পূর্ণ টিকা নিয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
টিকাদান কার্যক্রম জোরদার
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে কয়েক কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, তবে এখনো অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে
দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। সময়ে চিকিৎসা না নিলে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
দেশে হাম পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
