লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত। বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একই হামলায় আরও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই ওই এলাকায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের জেবদিনে এলাকায় একটি আবাসস্থল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম L’Orient Today এ তথ্য জানায়।
নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়
বৈরুতে অবস্থিত Embassy of Bangladesh in Beirut এক শোকবার্তায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের একজন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম। অন্যজন আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম।
দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেবদিনে দ্বিতীয় দফা হামলা
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, জেবদিনে এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে একই এলাকায় জেবদিন পৌরসভার একটি রুটি বহনকারী ভ্যান লক্ষ্য করে আরেকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়।
সেই হামলায় স্থানীয় আরও দুই বাসিন্দা নিহত হন। ধারাবাহিক এসব হামলায় দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে Lebanon ও Israel সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
গত ২ মার্চ পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত এবং আরও ৮ হাজার ৭৩০ জন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, চলমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
লেবাননে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
লেবাননে চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।
নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে দূতাবাস কাজ করছে বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
