মাদক ব্যবসায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।
মাদক সংশ্লিষ্টতায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের ছাড় নয়: আইজিপি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসা বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রমাণিত হলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জনআস্থা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মঙ্গলবার রাজধানীর Rajarbagh Police Lines-এ আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকবিরোধী অবস্থানে কঠোর পুলিশ
আইজিপি বলেন, মাদক বর্তমানে দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাদকবিরোধী অভিযান ও প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ মাদক নির্মূলে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে বাহিনীর ভেতরে কেউ যদি এই অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার ভাষায়, “মাদক সংশ্লিষ্টতায় কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
পুলিশের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা বর্তমানে পুলিশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতায় জড়িত কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আইজিপির এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রশংসা
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আইজিপি দায়িত্বশীল ও পেশাদার সদস্যদের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্তদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়; বরং এটি দায়িত্ববোধ, সততা, নেতৃত্ব ও পেশাদারত্বের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনী, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত
এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আইজিপির মতে, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সততা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান
অনুষ্ঠানের শেষাংশে আইজিপি সব পুলিশ সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরও আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদার মনোভাব ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধ কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
