গণতন্ত্র, বিরোধী মত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী মত দমন এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—“ফ্যাসিবাদী তাহলে কে?”
তার বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, বিরোধী মত দমন, বিচার বিভাগের ব্যবহার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা অভিযোগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
মোহাম্মদ আলী আরাফাত অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে এবং দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে “একতরফা রাজনৈতিক বাস্তবতা” তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দিয়ে গণতন্ত্রের কথা বলা আত্মবিরোধী।
সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ
বক্তব্যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তোলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা এবং শাকিল আহমেদ-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরাফাতের অভিযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করে সমালোচনামূলক কণ্ঠগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে।
বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার ইস্যু
সাবেক এই মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সাবেক বিচারপতিদের বিরুদ্ধেও “মিথ্যা মামলা” দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিচার ছাড়া আটক রাখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুলিশ হেফাজত ও কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কিছু প্রতিবেদনেও সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতীক নিয়েও বিতর্ক
মোহাম্মদ আলী আরাফাত দাবি করেন, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে দমন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনে “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের” প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে অবিশ্বাস ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন
এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর হতে পারে।
