রামপুরায় শিশুর আত্মহত্যা মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার। আরও ৪ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রামপুরায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার, আরও ৪ শিশুর অভিযোগ
রাজধানীর রামপুরায় এক শিশুশিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ও বলাৎকারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাব হোসেনকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু নিহত শিশু নয়, আরও অন্তত চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগী অন্যান্য শিশুদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিলল নির্যাতনের আলামত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাতে রাজধানীর বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ উঠে আসে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা
ঘটনার পর নিহত আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,
এটি শুধু একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; বরং শিশু নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের একটি গুরুতর অপরাধমূলক চক্রের ইঙ্গিতও হতে পারে।
পাবনা থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর আগেই অভিযুক্ত শিহাব হোসেন মাদ্রাসা ত্যাগ করে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
পরে রামপুরা থানার একটি বিশেষ দল পাবনা জেলার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও
কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
