ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। যানজট ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
ঈদযাত্রায় স্বস্তি: চাপ নেই পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়েতে
নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদযাত্রায় অনেকটাই স্বস্তি বিরাজ করছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায়। ছুটির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ফলে নির্বিঘ্নেই বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা।
সকাল থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেলেও সেতু পারাপারে যানবাহনের গতি ছিল স্বাভাবিক। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় দ্রুত টোল আদায়ের কারণে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়নি।
টোল প্লাজায় বাড়তি ব্যবস্থা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বড় যানবাহনের জন্য সাতটি পৃথক টোল বুথ এবং মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা কাউন্টার চালু রয়েছে। ফলে খুব কম সময়েই টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে এবং যানবাহন দ্রুত সেতু পার হতে পারছে।
টোল আদায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি। এতে চালক ও যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এক্সপ্রেসওয়েতে নেই যানজট
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও স্থায়ী যানজট নেই। মাঝে মধ্যে ধীরগতি দেখা গেলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে শিবচর, মাওয়া ও লৌহজং এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভোগান্তি ভায়া যানবাহন সংকটে
তবে সবখানে স্বস্তি থাকলেও কিছু যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষ করে ভায়া যানবাহনের সংকটের কারণে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় যাত্রীরা জানান, ছোট যানবাহনের তুলনায় গণপরিবহন তুলনামূলক কম থাকায় তারা সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়ায় যানবাহনে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।
পুলিশের কঠোর নজরদারি
পদ্মা উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক
ও পদ্মা সেতু এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, চাঁদাবাজি কিংবা যাত্রী হয়রানি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
ঈদযাত্রায় স্বস্তির বড় কারণ পদ্মা সেতু
বিশ্লেষকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো,
এখন সেখানে কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে সময়, খরচ ও ভোগান্তি—সবই কমেছে।
এবারও ঈদ উপলক্ষে বাড়তি চাপ সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
