৩২ লাখ টাকার গরু কেনা নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন পানিসম্পদমন্ত্রীর ছেলে সারিয়ান চৌধুরী। জানালেন কুরবানি ও এতিমখানার কথা।
৩২ লাখ টাকার গরু বিতর্কে মুখ খুললেন মন্ত্রীর ছেলে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে ৩২ লাখ টাকায় গরু কেনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন মন্ত্রীর ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
‘এটি আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ’
সারিয়ান চৌধুরী তার পোস্টে জানান, তাদের পরিবারে প্রতি বছর একাধিক গরু কোরবানির জন্য কেনা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, তার বাবা ও চাচারা মিলে পারিবারিক কোরবানি ছাড়াও ‘হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদরাসা’র জন্য নিয়মিত গরু কেনেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় থেকে আটটি গরু কেনা হয় এবং চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতায় মোট ছয়টি গরু কেনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শুধুমাত্র ৩২ লাখ টাকার একটি গরুর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সমালোচনার জবাবে প্রশ্ন
পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্নও তুলেছেন সারিয়ান। তিনি লেখেন, তার বাবা বর্তমানে মন্ত্রী বলেই কি এই সমালোচনা হচ্ছে? তিনি আরও বলেন, “৫০ বছর পরেও যদি আমাদের পরিবার ১০টি গরু দিয়ে কোরবানি করে, তখনও কি একই সমালোচনা হবে?”
তার দাবি, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং বাস্তব প্রেক্ষাপট অনেকেই বিবেচনায় নিচ্ছেন না।
গরুগুলো যাবে গরিবদের জন্য
গরুগুলো কোথায় ব্যবহার হবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সারিয়ান চৌধুরী। তিনি জানান, কেনা সব গরুই কোরবানির পর গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “সবগুলো গরুই গরিব মানুষের হক। মানুষের হক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ইনশাআল্লাহ।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, গরু কেনার বিষয়টি ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়; বরং সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই তাদের পরিবার এটি করে থাকে।
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সারিয়ানের পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
তাদের মতে, সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা কোরবানির মাধ্যমে গরিবদের সহায়তা করলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত।
তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত ব্যয়বহুল গরু কেনা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে একজন মন্ত্রীর পরিবারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভিন্ন থাকে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী মতের অনেকে বিষয়টিকে “অপচয়” হিসেবে তুলে ধরলেও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও সহজেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
ফলে জনমত ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৩২ লাখ টাকার গরু কেনা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে মন্ত্রীর ছেলের ব্যাখ্যা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এখনো থামেনি। কোরবানির পশু কেনা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নাকি জনমানুষের আবেগ ও
অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত— সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
