দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩১ জন নিহত। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩১, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন শঙ্কা
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০ জন। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার আলোচনা চললেও নতুন এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একাধিক নারী ও শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বুর্জ আল-শেমালি এলাকায়। সেখানে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুটি শিশু ও তিন নারী রয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে হামলা
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, টায়ার ও মারজাইউন জেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বুর্জ আল-শেমালি, হাব্বুশ, মারাকেহ, সেলা এবং কাওতারিয়াত আল-রুজসহ বেশ কয়েকটি এলাকা।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, কাওতারিয়াত আল-রুজে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। হাব্বুশে ৪ জন এবং মারাকেহ এলাকায় আরও ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের দাবি—হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সক্রিয় যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১০০টিরও বেশি স্থাপনা ও অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সেই চুক্তির পরও
একাধিকবার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
লেবাননের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজারেরও বেশি
মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক হামলার পর নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
