সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। চলছে কোরবানি ও হজের আনুষ্ঠানিকতা।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং পবিত্র হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পালন করছেন এই মহিমান্বিত দিনটি। মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হাজির সমাবেশ
ঈদুল আজহার আগে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় ১৬ লাখ হাজি। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে হাজিরা সমবেত হন।
শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর। দিনভর তারা তওবা, ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান হজের প্রধান রুকন হিসেবে বিবেচিত।
নামিরা মসজিদে হজের খুতবা
আরাফাতের ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা প্রদান করেন Ali Al Huthaifi। খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, নৈতিকতা এবং বিশ্বশান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা সহজে খুতবার বার্তা বুঝতে পারেন।
খুতবা শেষে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন এবং সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন।
মিনায় শুরু শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ
মুজদালিফায় রাতযাপন শেষে আজ সকালে হাজিরা মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।
এর মধ্য দিয়েই ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা
এবং পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন হাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের আনন্দে প্রবাসীরা
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরাও ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অনেকে আগেই কোরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।
সামাজিক ও পারিবারিক মিলনমেলায় মুখর হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহর।
সৌদি সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা
তীব্র গরমের মধ্যেও হজযাত্রীদের স্বস্তি দিতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
হাজিদের জন্য বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামকেন্দ্র এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।
এছাড়া হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
