যুবদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও পদযাত্রা করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা।
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, গুলশানে পদবঞ্চিত নেতাদের অবস্থান
জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীরা। ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও পদযাত্রা পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা নতুন কমিটির পুনর্মূল্যায়ন এবং যোগ্য নেতাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
কমিটিতে ‘ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন’ অভিযোগ
প্রতিবাদকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, হামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েও যারা যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেকেই নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাননি।
তাদের অভিযোগ, সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাদের পরিবর্তে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অবদান ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে পদ বণ্টন করা হয়েছে।
‘মাইম্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবাদকারী নেতাদের অন্যতম অভিযোগ ছিল, নতুন কমিটিতে ‘মাইম্যান’ বা ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তাদের মতে, সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যুবদলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেন, পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে ভবিষ্যতে সংগঠন সাংগঠনিক দুর্বলতার মুখে পড়তে পারে।
পদবঞ্চিত নেতাদের বক্তব্য
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পদবঞ্চিত নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, যুবদল আগামী দিনের বিএনপির নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। তাই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করে রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করেও তারা কমিটিতে স্থান পাননি।
তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ অভিযোগ করেন, নতুন কমিটি একটি ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে গঠিত হয়েছে।
তার মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পরও যোগ্য নেতাদের বঞ্চিত করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
দুই বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় তিন মাসের মধ্যে
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কমিটি ঘোষণার পর অসন্তোষ ও পদবঞ্চনার অভিযোগ নতুন নয়।
তবে এসব অভিযোগ দ্রুত সমাধান না হলে তা সাংগঠনিক ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, তা বিএনপির জন্য একটি সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
এখন দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই অসন্তোষ মোকাবিলা করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
