অবসরের ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে দেশের মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে সাক্ষাৎকারে জানালেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
অবসরের ভাবনা নাকচ, দেশের মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা হাসিনার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ভারতে অবস্থানরত এই নেতা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না; বরং দেশের জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ভারতীয় বাংলা দৈনিক এই সময়-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং নিজের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে খোলামেলা বক্তব্য তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
অবসরের চিন্তা ছিল, এখন নয়
শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর একসময় রাজনীতি থেকে অবসরের বিষয়টি তার মাথায় এসেছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই চিন্তা আর নেই।
তার ভাষায়, দেশের জনগণ, দলীয় নেতাকর্মী এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করেন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক পরিবারের অংশ হিসেবে কাজ করেছেন এবং কঠিন সময়ে তাদের ছেড়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
‘আমি ক্ষমতা চাই না, দায়িত্ব এড়াতে পারি না’
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান।
তিনি দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র সংকটের মধ্যে রয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বহু নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের চাপ ও মামলার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বলেই মন্তব্য করেন।
নতুন নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দলটি কোনো পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয়। নেতৃত্ব নির্বাচন হবে দলের কাউন্সিল এবং নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে।
তিনি জানান, গত কয়েকটি দলীয় কাউন্সিলেও নতুন ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।
ভবিষ্যতেও মেধাবী, দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার মতে, নেতৃত্ব কোনো অলঙ্কার নয়; এটি একটি দায়িত্ব।
সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী
বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন,
আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এবং জনগণের সমর্থনই তাদের মূল শক্তি।
তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের জনগণ একসময় গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি দেশে ফিরে আসতে চান বলে উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে এলে আওয়ামী লীগের নতুন কাউন্সিল আয়োজন করা হবে।
সেখানে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে দলকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন,
বর্তমানে অনেক তরুণ নেতা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কার্যক্রম ধরে রেখেছেন। ভবিষ্যতে তারাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তার অবসর প্রসঙ্গ, দেশে ফেরার প্রত্যাশা
এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা একদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন,
অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও একটি বার্তা দিয়েছেন যে তিনি এখনই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন না।
