দিল্লি বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা আটক রাখা হয় ডা. জাহেদ উর রহমানকে। প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে সফর বাতিল করে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
ভারত সফরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, নতুন কূটনৈতিক প্রশ্ন
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখার পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশ না করেই সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঘটনাটি শুধু একটি ভ্রমণ-সংক্রান্ত জটিলতা নয়; বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ, ডা. জাহেদ উর রহমান ব্যক্তিগত সফরে নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিতে ভারত গিয়েছিলেন।
বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ডা. জাহেদের নাম নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য আলাদা রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাকে অপেক্ষা করানো হয়। এ সময় তার দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক অস্বস্তিতে রূপ নেয়।
উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের পরও সফর বাতিল
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা হয়। তবে ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রটোকলগত প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় ডা. জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অবস্থান না করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর তিনি রাতেই দিল্লি ত্যাগ করে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার যাত্রা শুরু করেন।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল
সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (IORA)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তার সফর সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন করেছিল।
এরপরও বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা
ঘটনার পর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে,
যিনি একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছিলেন, তাকে কেন নিরাপত্তা তালিকায় দেখানো হলো—সেটি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রশাসনিক ভুল, তথ্যগত বিভ্রাট অথবা নিরাপত্তা প্রটোকলের কোনো অসামঞ্জস্যের ফল হতে পারে।
তবে দুই দেশের কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য কী বার্তা?
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত।
বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সংযোগ, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে একজন উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টির ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা
ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি।
ফলে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তবে ইতোমধ্যেই ঘটনাটি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং গণমাধ্যম মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দরের এই ঘটনা আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
