নেত্রকোনায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চাঁদাবাজির মামলায় নেত্রকোনার জামায়াত নেতা কারাগারে
নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে কারাগারে
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম জেলা সদরের কয়ড়া গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।
বাংলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি মশিউর রহমানও নজরুল ইসলামের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ কী?
মামলার বাদী ব্যবসায়ী মো. রুবেল রানা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় জুতার ব্যবসার পাশাপাশি নেত্রকোনায় বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তার দাবি, নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা শহরের অজহর রোড এলাকায় তার গাড়ির গতিরোধ করা হয়।
পরে তাকে জোরপূর্বক মোক্তারপাড়া মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
‘চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি’
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে নিয়ে ব্যবসায়ী রুবেল রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী তার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ঘটনার পরদিন তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজের দাবি
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে সেই ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের মাধ্যমে মামলার তদন্তও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে গেলে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন।
