জি এম কাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিস্তারিত প্রতিবেদন পড়ুন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, দাবি জি এম কাদেরের
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নির্বাচন ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নেই এবং প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
জি এম কাদের বলেন, দেশে আইনের শাসনের ঘাটতির কারণেই গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সংবাদমাধ্যম বাস্তব তথ্য প্রকাশের চেষ্টা করলেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী হামলা, ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে সেই প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে জনগণ দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায় না। ফলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, এবারের নির্বাচন অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় আরও বেশি অনিয়ম ও কারচুপির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে অনিয়মের মাত্রা বেশি ছিল। তাঁর কাছে এ-সংক্রান্ত আরও তথ্য রয়েছে, যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং জাতীয় পার্টিকেও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সহনশীলতার অবনতির অভিযোগ
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তাঁর মতে, বর্তমানে এমন অনেক ব্যক্তি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন,
যাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে মতের অমিল হলেই কিছু তরুণ অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন,
যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বক্তব্য
আওয়ামী লীগকে ঘিরেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন,
জুলাইয়ের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
তবে তিনি মনে করেন, দলগতভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা শিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাখলে দেশে
দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। এতে ভবিষ্যতে সামাজিকও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জি এম কাদের। তিনি বলেন,
জনগণের মধ্যে এখনো পুলিশ বাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ফিরে আসেনি। ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশে কার্যকর সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন নিয়ে তাঁর মনে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্লেষণ
জি এম কাদেরের বক্তব্যে মূলত চারটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ, রাজনৈতিক সহনশীলতার সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
এগুলো তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা
অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়। পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
