ঢাকার বাবর রোড ও জেনেভা ক্যাম্পে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘনঘন যাতায়াত। ২২ বহিরাগত ও সিরিজ বোমা হামলার বড় ছক নিয়ে চাঞ্চল্যকর খবর।
বিশেষ অনুসন্ধান সেল:
রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা মোহাম্মদপুরের বাবর রোড। সেখানে রয়েছে সুপরিচিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান আল-মারকাজুল ইসলামী।
আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ সেবামূলক সংস্থা। কিন্তু গত দেড় মাস ধরে সেখানে অদ্ভুত পরিবেশ। সেখানে রচিত হচ্ছে এক বিপজ্জনক দৃশ্যপট। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যাতায়াত বেড়েছে। অচেনা ও সন্দেহভাজন বহিরাগতরা নিয়মিত সেখানে আসছে।
পরবর্তীতে তাদের জেনেভা ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে এক চরম সংবেদনশীল খবর এসেছে। দেশে ফের একযোগে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক তৈরি হচ্ছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের আমলের মতো সিরিজ হামলা চালানোর চেষ্টা চলছে।
দেড় মাসের গোপন বৈঠক ও ২২ জন বহিরাগত
অনুসন্ধানে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত দেড় মাস ধরে বাবর রোডের কার্যালয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক দল আসছে। পাকিস্তান দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারির নেতৃত্বে এই টিম কাজ করছে।
কূটনৈতিক প্রটোকল ভেঙে একটি সাধারণ সংস্থায় ঘনঘন যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৈঠকে অন্তত ২২ জন অচেনা বহিরাগত অংশ নেয়।
সেবামূলক কাজের অশুভ দোহাই দেওয়া হচ্ছিল। বাস্তবে অস্থিতিশীলতা তৈরির স্পর্শকাতর পরিকল্পনা চলছিল।

জেনেভা ক্যাম্পের গোপন আস্তানা ও ‘বোবার বিরিয়ানি’ সংযোগ
আজ এই সন্দেহের মাত্রা মারাত্মক রূপ নেয়। কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলটি বাবর রোড থেকে সরাসরি জেনেভা ক্যাম্পে যায়।
বাবর রোডে বৈঠক করা ২২ জন বহিরাগতকে আগেই সেখানে রাখা হয়েছিল।
ক্যাম্পের ভেতরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল। সেখানকার সুপরিচিত ‘বোবার বিরিয়ানি’র পাশের ভবনটি বেছে নেওয়া হয়।
সেই ভবনের দোতলার একটি গোপন কক্ষ তারা ব্যবহার করছে। কক্ষটি বাইরে থেকে সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ রাখা হয়।
সাধারণ মানুষ যেন কিছু বুঝতে না পারে, সে জন্য এই সতর্কতা। বহিরাগতরা এই গোপন ঘরটিকে প্রধান কেন্দ্র বানিয়েছে।
অভিযান, রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আগুন ও আকস্মিক প্রস্থান
আজ ক্যাম্পের ভেতরে কূটনৈতিক দলটি অবস্থান করছিল। ঠিক তখনই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে।
পুলিশের উপস্থিতিতে কূটনৈতিক দলের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আগুন লাগার খবর আসে। গুলশানের সেই অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে কূটনৈতিক দল স্থান ত্যাগ করে।
একপাশে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছিল। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূতের বাসায় আগুনের জরুরি খবর পাওয়া যায়।
দুই ঘটনার পর প্রতিনিধি দলটি তড়িঘড়ি কেটে পড়ে। ঘনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে এমন প্রস্থান বিষয়টিকে রহস্যময় করে তুলেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য: “সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে প্রেশার কুকার ও ছাতা বোমা পাওয়া গেছে। বাকেরগঞ্জে চিপসের প্যাকেটে আইইডির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। এসব মূলত সরঞ্জামের সক্ষমতা যাচাইয়ের মহড়া ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ২০০১-২০০৬ আমলের মতো সিরিজ হামলা চালানো।”

রবিবারের ভয়াবহ পরিকল্পনা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বড় চ্যালেঞ্জ
গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে এসেছে এক নতুন হুমকি। আগামী রবিবার জেনেভা ক্যাম্পের ওই আস্তানায় গোপন জমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে। ২২ জন বহিরাগত ও স্লিপার সেলের সদস্যরা সেখানে একত্রিত হবে।
এই জমায়েত থেকে দেশব্যাপী বিস্ফোরণের নির্দেশ যেতে পারে।
একটি দাতব্য সংস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের তালাবদ্ধ কক্ষে ক্যাডারদের রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ছোট বিস্ফোরণের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো সম্পন্ন হয়েছে।
এসব অপতৎপরতা দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য তীব্র হুমকিস্বরূপ। রবিবারের এই ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করা এখন প্রধান কাজ। একই সাথে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
