গত শুক্রবার উত্তরার রাস্তায় আওয়ামীলীগের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হাতে দলীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি, সাথে স্লোগান “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৫- শুক্রবার উত্তরার রাস্তায় আওয়ামীলীগের মিছিল -এ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এনসিপি সহ দেশের সরকার এতটাই আতঙ্কিত যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজে পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সরাসরি ঘোষণা করেন যে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিরোধী পক্ষ হুমকি দেয় যে, যদি তাদের গ্রেপ্তার না করা হয় এবং মিছিল বন্ধ না করা হয়, তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা’র নামে আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের মিছিলে পর শুরু হয় সরকারী বাহিনীর “অভিযান”। গতকাল রাতভর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০’রও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, অনেকেই নিরীহ সাধারণ মানুষ।
এসব গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিলেন একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা, যিনি তার মায়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান।
ওই মা রাতভর থানার সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের মুক্তির জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন, কিন্তু তাতেও কোনো কাজের হয়নি।
এদিকে, সরকারের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছিলেন সবাই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যার দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলছেন যে, আওয়ামী লীগের মিছিল কারীদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করতে হবে। তারা একে অপরকে ‘হত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, বিশেষত “জুলাইয়ে নিহত ছাত্রদের হত্যা মামলার” আসামি হিসেবে।
এখন আর শুধু বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আতঙ্কিত নয় বরং সাধারণ মানুষেরও ভেতরে ভেতরে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে।
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো প্রতিবাদ মিছিল, বা আন্দোলনের চেষ্টা করলে; তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে ও হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি, পুলিশও যদি এই গ্রেপ্তার কার্যক্রমে ব্যর্থ হয়; তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এমন হুমকির পর, পুলিশ বাহিনীও এখন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘হাসিনার দালাল পুলিশ’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চলে এসেছে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। “Human Rights Watch Bangladesh” ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী করছেন, সে বিষয়েও অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।
যখন এক সময় তারা বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সোচ্চার ছিল, এখন তারা এখন কী করছে? এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিবাদ এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।
দেশের রাজনীতি এবং সমাজের এই পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিরোধী দলের ওপর সরকারের একতরফা দমননীতি—এখন দেশে একটি নতুন “বন্দোবস্ত” তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিবাদ এবং আন্দোলন পুরোপুরি দমন করা হচ্ছে। এবার প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহনীয় হতে পারে?
এখন সময় এসেছে, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির সঠিক মূল্যায়ন করার। কি ঘটছে এখন, তা দেশ এবং পৃথিবীর কাছে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
