✍️ জি ইসলাম;
বাংলাদেশে গণমাধ্যম আজ এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার মুখোমুখি। সাংবাদিকতা যে এক সময় মুক্ত মতপ্রকাশের মাধ্যম ছিল, তা এখন হয়ে উঠেছে দমন-পীড়নের লক্ষ্যবস্তু। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা সরকারের সমালোচনা করলেই সাংবাদিকদের পড়তে হচ্ছে ভয়াবহ পরিণতির মুখে।
সাংবাদিকদের ওপর ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। কেউ হচ্ছেন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, কেউ আবার মিথ্যা মামলার শিকার। অনলাইনে সম্মানহানিকর আক্রমণও এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এসব আক্রমণের মূল লক্ষ্য—সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে দেওয়া, ভয়ভীতির মাধ্যমে নিরপেক্ষতা হারানো এবং রাজনৈতিক দাসে পরিণত করা।
দলীয়করণ আজ সাংবাদিকতার প্রাণশক্তিকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। অভিজ্ঞ ও প্রথিতযশা সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক আনুগত্যে বিশ্বাসী, অযোগ্য ব্যক্তিদের। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতা, আর সংবাদ পরিবেশনে আসছে একমুখী ও পক্ষপাতদুষ্ট বার্তা।
সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্ট সহযোগী’ তকমা লাগিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করা, ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দেওয়া, এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সহিংসতা—এসবই এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়, কার্যকর কোনো প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।
মিডিয়া মালিকানায়ও ভয়ানক পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি ও জামায়াত ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মালিকানা গ্রহণ করে নিজেদের স্বার্থে সংবাদ বিকৃতি করছে। এতে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক সচেতনতা গভীর হুমকির মুখে পড়েছে।
আজকের সাংবাদিকতা যেন আতঙ্ক, দুরভিসন্ধি ও রাজনৈতিক দাসত্বের ছায়ায় বন্দি। সত্য, অনুসন্ধান, স্বচ্ছতা এসব শব্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গণমাধ্যম থেকে।
