✍️ জি ইসলাম;
বান্দরবানের থানচি এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলগুলো একসময় শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু আজ তা অস্থির, উত্তপ্ত এবং অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিশেষ করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি-র উপস্থিতি এবং তাদের তৎপরতা পাহাড়ের স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।
এই গোষ্ঠীগুলো শুধু অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় এরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, যা এই পরিস্থিতিকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।
এছাড়াও, থানচি ও আশপাশের এলাকায় জঙ্গি সংগঠন ও মাদক কারবারিদের সক্রিয় উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। ইয়াবা পাচার, অস্ত্র লেনদেন এবং চাঁদাবাজি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পার্বত্য অঞ্চলটি যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে সরে আছে। ফলে মানুষ আতঙ্কিত, কেউ কেউ রাতের বেলায় ঘর থেকেও বের হতে ভয় পান। পাহাড়ে আগের মতো নিরাপদ চলাফেরা এখন শুধুই স্মৃতি।
এই সংকট শুধু স্থানীয় বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের এই অঞ্চলে অবস্থান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটিতে পরিণত করতে পারে।
তাই এখনই প্রয়োজন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ। দরকার প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত নজরদারি, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে প্রশাসনিক শক্তি জোরদার করা। অন্যথায় পাহাড়ের অগ্নিশিখা একদিন ছড়িয়ে পড়তে পারে সমতলের বুকে।
