চট্টগ্রাম বন্দর ও করিডোর ব্যবহার ঘিরে সার্বভৌমত্ব নিয়ে নীরবতা, অথচ প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে উচ্চকণ্ঠ! এই দ্বিচারিতা কী জাতীয় স্বার্থকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে?

যখন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হয়, তখন বাংলাদেশের কিছু শ্রেণি উচ্চকণ্ঠ হয়ে ওঠে — “সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে!” অথচ নিজেদের দেশে করিডোর খুলে দিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবহার দিয়ে যখন একটি পরাশক্তির মতো রাষ্ট্রের প্রভাব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাঁদের মুখে নীরবতা।
করিডোর নাকি আধিপত্যের নতুন রূপ?
চট্টগ্রাম বন্দর, বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড, আজ বহির্বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের নর্থ-ইস্ট, নেপাল, ভুটান পর্যন্ত করিডোর সুবিধা—এই সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে “অর্থনৈতিক কূটনীতি”, কিন্তু বাস্তবে এটা কী শুধু লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা? নাকি পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া?
বিশ্লেষকরা বলছেন, করিডোরের মাধ্যমে যে তথ্য ও বাণিজ্য প্রবাহ চলছে, তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ কে নিয়ন্ত্রণ করছে?
আজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলাচল করছে বিদেশি কনটেইনার, মডিউল, সেনা সরঞ্জাম। বিদেশি পরামর্শকদের নিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নানা বেসামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আমাদের কৌশলগত সম্পদগুলোকে কারা চালাচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে দেয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের থেকে বেশি কি বিদেশি নাগরিকরাই দেশের কৌশল নির্ধারণে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে?
সার্বভৌমত্ব কি এখন ‘পার্টটাইম’ ইস্যু?
যখন প্রতিবেশী কোনো দেশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সীমান্ত অতিক্রম করে, তখনই সার্বভৌমত্ব নিয়ে জাতীয় উন্মাদনা। কিন্তু যখন দিনের পর দিন দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তে বিদেশি হস্তক্ষেপ বাড়ছে, তখন সে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার পরিবর্তে দেখা যায় ‘রাজনৈতিক সুবিধা’র সমীকরণ।
এটাই কি ‘সার্বভৌমত্বের নতুন সংজ্ঞা’?
বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে এক অদৃশ্য করিডোরের উপর দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন একটাই—আমরা কি এই করিডোর দিয়ে শুধু পণ্য পাঠাচ্ছি, না আমাদের নীতিনির্ধারণক্ষমতাও ধীরে ধীরে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি?
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গর্জে ওঠা জরুরি। সার্বভৌমত্ব কোনো সুবিধামতো তুলে আনা ইস্যু নয়—এটা প্রতিদিনের বাস্তবতা।
