
চট্টগ্রাম শহরের আজকের ঘটনাবলি নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা নয়। বরং তা একটি সুপরিকল্পিত এবং বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। এই হামলা ছিল এক শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে সংঘটিত সহিংসতা।
গতকাল চট্টগ্রামে সুন্নি মুসলিমদের এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে প্রথমে পুলিশ, পরে কিছু মুখোশধারী দাঙ্গাকারী হামলা চালায়—যাদের আচরণ জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের মতোই ছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা ঘটেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে, যাঁরা কোনো প্রতিরোধ না করে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—
- কার নির্দেশে পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ চালালো?
- জামায়াত-শিবির ঘরানার হামলাকারীরা কিভাবে সেনাবাহিনির সামনে দাঁড়িয়ে সুন্নি মুসল্লিদের মারধর করলো?
- আর রাষ্ট্র এখনো কেন নিশ্চুপ?
এটা কি তাহলে জামায়াত-শিবিরের পুনরুত্থান ও পুনর্বাসনের নতুন কৌশল?
নাকি এটি একটি বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক রূপরেখার সূচনা, যেখানে ধর্মীয় বিভাজনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
ধর্মনিরপেক্ষতার উপর সরাসরি আঘাত
বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যেখানে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গতকালের ঘটনার মাধ্যমে তা কার্যত পদদলিত হলো। এটি শুধু সুন্নিদের উপর নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের উপর আঘাত।
রাষ্ট্রীয় বাহিনির ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনতে হবে
এই হামলার নেপথ্য পরিকল্পনা এবং বাহিনির নির্লিপ্ত ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে প্রমাণিত হবে, রাষ্ট্র নিজেই কোনো না কোনোভাবে এই ষড়যন্ত্রের শরিক।
সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের করণীয়
- নিরপেক্ষ তদন্ত ও রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে
- মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল সংরক্ষণ ও প্রচার করতে হবে
- দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও সংহতির মঞ্চ তৈরি করতে হবে
এই হামলার নীরবতাই কাল হবে ভবিষ্যতের জন্য
আজ যদি আমরা মুখ বন্ধ রাখি, কাল শিকার হতে পারে অন্য কেউ—শিয়া, আহমদিয়া, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান। তাই আজই সময় সংগঠিত হয়ে রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার।
