মাহফুজকে দিয়ে জামাতকে ‘মেকি’ভাবে ভর্ৎসনা করিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে বিভ্রান্ত করার শঠতা এখন স্পষ্ট। এটি একটি মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ, যা আদর্শিক শত্রুদের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা।
📅 প্রকাশিত তারিখ: 11 May 2025;
বাংলাদেশে আজ যেসব কৌশলগত বিভ্রান্তি চলছে, তার পেছনে স্পষ্টতই একটি মেটিকুলাস ডিজাইন কাজ করছে—যার অন্যতম মুখ মাহফুজ। তাকে দিয়ে জামাতকে ‘মেকি’ভাবে ভর্ৎসনা করিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা এখন আর গোপন কিছু নয়।
ঠিক যেভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই'—এই স্লোগানকে ব্যবহার করে আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল, সেভাবেই আজ জামাত-বিরোধিতার মুখোশ পরে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চাচ্ছে। যে আদর্শকে তারা অন্তরে ধারণই করে না, সেই আদর্শকে কৌশলে ব্যবহার করছে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য।
জামাত প্রশ্নে মাহফুজ: এক চাতুরীপূর্ণ ভ্রান্তি
এরা জানে, বাংলাদেশের জনগণ জামাত-বিরোধী, তাই সরাসরি জামাতের মুখপাত্র হয়ে কাজ করা যাবে না। তাই মাহফুজদের মতো লোকদের দিয়ে জামাতের ‘মেকি বিরোধিতা’ করিয়ে জনগণের সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যেন এটা দেখানো যায় যে সরকার জামাত প্রশ্নে কঠোর—এটাই হচ্ছে নাটকের মূল লক্ষ্য।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আদর্শিক জায়গায় মাহফুজ আর জামাত আলাদা কী? বাস্তবে নয়। উভয়েই জ/ঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট মানসিকতা লালন করে এবং উভয়েই বাংলাদেশবিরোধী কাঠামোতে নিজেদের ভূমিকা পালন করছে। মাহফুজদের আসল উদ্দেশ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পণ্য করে জামাতের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
শঠতার রাজনীতি: পরিচিত চক্রের নতুন চেহারা
এই শঠতা, এই কৌশলগত মুখোশ পরা—সবই সেই পুরোনো পরিচিত রাজনৈতিক চক্রের নতুন চেহারা। এরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের ছায়ায় নিজেদের লুকিয়ে রেখে সেই দল এবং আদর্শকে ধ্বংস করতে কাজ করছে। তাদের জন্য আদর্শ নয়, কেবল সুযোগ-সন্ধান এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বাংলাদেশের জনগণের সামনে এই প্রশ্ন: শত্রুদের চেনার জন্য আর কতটা শঠতার প্রয়োজন হবে? কারণ মেটিকুলাস ডিজাইন যত নিখুঁতই হোক, ইতিহাসের চোখে তা ধরা পড়ে ঠিকই।
