শাহবাগে মৌলবাদী চক্রের বিতর্কিত স্লোগান সেনাবাহিনীর মর্যাদার প্রতি সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উসকানিমূলক প্রচারণায় একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে।
ঢাকা, ১২ মে ২০২৫:
রাজধানীর শাহবাগে সম্প্রতি একটি মৌলবাদ-সংশ্লিষ্ট চক্রের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে সেনাবাহিনী প্রধানকে উদ্দেশ্য করে “ওয়াকার না হাসনাত” — এই কুরুচিকর ও উসকানিমূলক স্লোগান উঠে আসে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উগ্র মৌলবাদী চিন্তাধারার কিছু ব্যক্তি হঠাৎ করে এই স্লোগান দিতে শুরু করে এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। তারা সেনাপ্রধানের সঙ্গে ‘হাসনাত’ নামক এক বেসামরিক ব্যক্তির তুলনা করে তাকে “শক্তিশালী বিকল্প” হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে — যা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে একটি প্রতীকী বিদ্রোহের বার্তা বহন করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাবাহিনীকে জনগণের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি একপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যেখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে।
অনেকে অভিযোগ করছেন, এই চক্রান্তের নেপথ্যে আছেন কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নাম, যারা সরাসরি না হলেও ‘পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা’ দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে একজন হিসেবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নামও আলোচনায় এসেছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর নিরবতা বা ‘নেতিবাচক নিষ্ক্রিয়তা’ও এই ষড়যন্ত্রকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বলেন:
“এটা শুধু একটি বিক্ষোভ না—এটা হলো আমাদের রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের ঘুঁটি সাজানোর আরেকটি প্রচেষ্টা। সেনাবাহিনীর ওপর আঘাত মানেই রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত।”
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই ধরণের উসকানি যদি রোধ না করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরের নিরাপত্তা হুমকিতে রূপ নিতে পারে।
