চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ মডেল মসজিদে মুসল্লিদের উপর হামলা দেশের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মৌলবাদের গভীর সংকটের প্রতিফলন। সরকার কি নীরব সমর্থন দিচ্ছে?

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদে নামাজ আদায়কালে মুসল্লিদের উপর হামলার ঘটনা শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মৌলবাদের একটি ভয়াবহ চিত্র। একদল মুসল্লিকে মারধর করে মসজিদ থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।
মসজিদ এমন এক পবিত্র স্থান, যেখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদতের জন্য আত্মনিবেদিত হন। সেখানে হামলা মানেই শুধুমাত্র শরীরিক সহিংসতা নয়—এটি ধর্মীয় অনুভূতির উপর সরাসরি আঘাত। এটি স্পষ্টতই মৌলবাদী আচরণের একটি রূপ, যা ইসলামের সহনশীলতার দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নিচে প্রধান কারনসমূহ আলোচনা করা হলোঃ
ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তাহীনতা
মসজিদ এমন এক পবিত্র স্থান, যেখানে মানুষ আল্লাহর ইবাদতের জন্য আত্মনিবেদিত হন। সেখানে হামলা মানেই শুধুমাত্র শরীরিক সহিংসতা নয়—এটি ধর্মীয় অনুভূতির উপর সরাসরি আঘাত। এটি স্পষ্টতই মৌলবাদী আচরণের একটি রূপ, যা ইসলামের সহনশীলতার দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইউনুস প্রশাসনের মৌনতা: প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা
সন্দ্বীপের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে এমন ঘটনায় সরকারের নীরবতা আরো উদ্বেগজনক। ইউনুস সরকারের আমলে বারবার সংখ্যালঘু নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এই নীরবতা কি মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার একটি কৌশল? নাকি এটি একটি বড় ধরণের ব্যর্থতা?
ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ও সামাজিক মেরুকরণ
বর্তমান শাসনামলে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা তৈরি হচ্ছে। মসজিদের মত পবিত্র স্থানেও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মুসল্লিদের আক্রমণের শিকার হতে হলে, সেটি নিছক অনাকাঙ্ক্ষিত নয়—বরং একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।
এই ঘটনায় আমরা একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি—এই কি সেই বাংলাদেশ, যার জন্য আমরা একদিন লড়েছিলাম? যেখানে ধর্ম হোক শান্তির পথ, বিভেদের নয়? সন্দ্বীপের মসজিদে যা ঘটেছে, তা পুরো দেশজুড়ে ধর্মীয় সহিংসতার অনিবার্য সংকেত কি নয়? এবং সবচেয়ে বড় কথা, যখন সরকার এই ধরনের ঘটনায় নীরব থাকে—তখন তা কি মৌলবাদকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করে না?
