১৭ এপ্রিল থেকে ১২ মে ২০২৫ পর্যন্ত একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে। ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত দেশকে আন্তর্জাতিক সংঘাতের মুখে ঠেলে দিচ্ছে কি?
২০২৫ সালের ১৩ মে;
বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন:
বাংলাদেশ এখন এক অস্বাভাবিক কূটনৈতিক ও সামরিক গতিপ্রবাহের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা—যেমন উচ্চ পর্যায়ের পাকিস্তান সফর, ইউক্রেনীয় সামরিক কার্গো বিমান, কাতার সফর, মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদের আগমন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাকিস্তানি কূটনীতিকের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত, পরিকল্পিত ও গভীর ভূরাজনৈতিক পুনঃগঠনের আভাস দিচ্ছে। এই সমীকরণের কেন্দ্রে আছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ঘটনাপঞ্জি সংক্ষেপে:
- ১৭ এপ্রিল ২০২৫: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় এসে ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন—১৫ বছরে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
- ১ মে ২০২৫: ইউক্রেনীয় সামরিক কার্গো (An-124) ঢাকায় অবতরণ করে, গন্তব্য ছিল কাতার। পুরো মিশন ছিল গোপনীয়।
- ৩ মে ২০২৫: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার কাতারে সফরে যান—সম্ভাব্য সামরিক আলোচনার উদ্দেশ্যে।
- ৫ মে ২০২৫: পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফর ‘অপ্রত্যাশিতভাবে’ বাতিল হয়।
- ৮ মে ২০২৫: মার্কিন বিমান বাহিনীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে; তাদের পরিচয় ও আগমনের সময় সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিতবাহী।
- ৯ মে ২০২৫: পাক হাইকমিশনার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন—এটা নিছক কূটনৈতিক সফর নয়।
- ১০ ও ১২ মে ২০২৫: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান বৈঠক করেন ‘মানবিক করিডোর’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে।
- ১১ মে ২০২৫: যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল ও হঠাৎ করে পাক হাইকমিশনারের ঢাকা ত্যাগ—সবই নতুন কিছু ইঙ্গিত করে।
- ১১ মে ২০২৫: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা—এটি অভ্যন্তরীণ সংকটকে চরমে নিয়ে যায়।
বিশ্লেষণ ও শঙ্কা:
এই ঘটনাপুঞ্জির মাধ্যমে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে রয়েছে—ভেতরে রাজনৈতিক দমননীতি, বাইরে সামরিক ও কূটনৈতিক রূপান্তর। "মানবিক করিডোর" এর মতো ধারণা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
ইউনূস সরকারের এই সব গোপন সামরিক প্রস্তুতি এবং বৈদেশিক মিত্রদের সাথে সমন্বয় অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা একে রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে রেখে একটি নিয়ন্ত্রিত সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পেষণ এবং বাইরের শক্তিগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি দেশকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ অথবা কৃত্রিম সঙ্কট এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
