মাত্র তিন দিনে বাংলাদেশে ৫৭৩৭ জন গ্রেপ্তার। এর মধ্যে ২৪৪৮ জনের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই। প্রশ্ন উঠছে—এটি কি রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন নাকি রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের নগ্ন প্রকাশ?
২০২৫ সালের ১২ মে;
বাংলাদেশে এখন চলছে একটি নীরব দুর্যোগ। এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় তাণ্ডব, যার নাম—”বিশেষ অভিযান”। গত ৭২ ঘণ্টায় ৫৭৩৭ জনকে গ্রেফতার করে সরকার একটি বার্তা দিতে চেয়েছে—রাষ্ট্র এখন আর জনগণের পাহারাদার নয়, বরং একটি দমনযন্ত্র।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, এই অভিযানে ৩২৮৯ জন ওয়ারেন্ট ও মামলাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বাকি ২৪৪৮ জন? তাদের অপরাধ কী? কোথাও কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। শুধু বলা হচ্ছে—”অন্যান্য ঘটনায়।” এই অস্পষ্টতা ইঙ্গিত দেয়, এসব গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই পরিস্থিতিকে অনেকেই তুলনা করছেন পূর্ব পাকিস্তান আমলের নিপীড়নের সঙ্গে। মত প্রকাশ, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা, বা শুধু নৈতিক অবস্থান নিলেই এখন মানুষকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। সরকারের সমালোচকদের ওপর শুধু নয়, আওয়ামী লীগের সমর্থকদেরও রেহাই নেই—যেহেতু ইউনূসপন্থীরা বলেই দিয়েছে: "আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।"
এই মুহূর্তে বারবার একটি নাম উঠে আসছে—ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি এখন একটি প্রতীক। তাঁর উপস্থিতিই যেন আজকের শাসকদের অস্বস্তির কারণ। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ, আক্রোশ, দমনমূলক অভিযান—সব মিলিয়ে সরকার যেন ইউনূসকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং প্রতিশোধের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছে।
তবে এটুকু নিশ্চিত—এটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং একটি সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় বার্তা। বার্তাটি পরিষ্কার:
“যারা আমাদের বিরোধিতা করবে, তারা সবাই শত্রু।”
এই ভয়ংকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন হচ্ছে—রাষ্ট্র কী তার মূল দায়িত্ব ভুলে গিয়ে আজ জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে?
যদি রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের শত্রু মনে করে, তাহলে সে আর রাষ্ট্র নয়, সে হয়ে ওঠে দমনযন্ত্র। এবং আমরা এখন সেই দমনযন্ত্রের ভারে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছি—প্রতিবাদের জায়গা নেই, কণ্ঠের স্বাধীনতা নেই, মত প্রকাশের অধিকার নেই।
