বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষে মতপ্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার—এই সরকারি সিদ্ধান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিপন্থী। এটি বাকস্বাধীনতা হরণের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।
Published Date: ২০২৫ সালের ১২ মে;
অন্যায়ের প্রতিবাদ কখনোই অন্যায় নয়।
এই নীতিবাক্যটি ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সেটি ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষত, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে কেউ যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের আদেশ জারি করা হচ্ছে—এটি ইতিহাসে বাকস্বাধীনতা হরণের অন্যতম জঘন্যতম দৃষ্টান্ত।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে কেউ সামাজিক মাধ্যমে সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললে তাকে আইসিটি আইন বা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। শুধু বাংলাদেশ নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের (UDHR, Article 19)ও অন্যতম ভিত্তি।
এভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তার এবং মতাদর্শিক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে সরকার যে প্রবণতা গড়ে তুলছে, তা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতোই এক ধরনের ‘ভাষা হরণ’। সে সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল, আজকের কর্তৃত্ববাদী চক্র মানুষকে মুখ বন্ধ করে রাখতে বাধ্য করছে।
মতপ্রকাশ কোনো অপরাধ নয়। কেউ যদি সরকারের সমর্থক হয় বা রাজনৈতিকভাবে একপক্ষের চিন্তাধারায় বিশ্বাস করে, তবে সেই মতকে দমন করাই হচ্ছে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
আজ যারা মুখের ভাষা কেড়ে নিচ্ছে, কাল তারাই ইতিহাসের আসামি হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত দমন নয়, বরং সহনশীলতা ও মুক্ত আলোচনা—এটাই হওয়া উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূলনীতি।
