আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন কিছু উদাহরণ আলোচনায় এসেছে, যেখানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ক্ষমতায় ফিরে আসে।
ঢাকা, ১২ মে ২০২৫:
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও স্বাধীনতা-সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী এই দলের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দৃষ্টি ফেরাচ্ছেন বিশ্ব ইতিহাসের দিকে, যেখানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো কখনো সশস্ত্র, কখনো বিপ্লবী কিংবা গণআন্দোলনের মাধ্যমে পুনরুত্থান ঘটিয়েছে।
আওয়ামী লীগ যখন রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, তখন বিশ্ব ইতিহাসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP), আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) সহ অন্যান্য দলের উদাহরণ তুলে ধরে—যারা দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বিপ্লবী সাফল্য অর্জন করেছিল। বাংলাদেশের সামনে এখন কোন পথটি অপেক্ষা করছে?
As the Awami League faces a political ban, global history offers lessons from parties like the CCP, ANC, and others who turned repression into revolutionary success. What path lies ahead for Bangladesh?
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP): দমন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায়
১৯২০ ও ৩০-এর দশকে চীনের কুওমিনটাং সরকারের অধীনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয়। মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে ‘লং মার্চ’ ও পরবর্তী গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে CCP ১৯৪৯ সালে চীনের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এবং গণচীন প্রতিষ্ঠা করে।
কিউবা: ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধ
ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গেভারার নেতৃত্বে ‘২৬ জুলাই আন্দোলন’ ১৯৫০-এর দশকে বাতিস্তা সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালায়।
নিষিদ্ধ থাকা অবস্থাতেই তারা ১৯৫৯ সালে হাভানা দখল করে কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে।
ভিয়েতনাম: হো চি মিনের সশস্ত্র প্রতিরোধ
ফরাসি ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের যৌথ দমননীতির বিরুদ্ধে হো চি মিন নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম পুনরায় একীভূত হয় এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটে।
নেপাল: গণঅভ্যুত্থানে মাওবাদীদের উত্থান
নেপালের মাওবাদী পার্টি ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দশ বছরের ‘People’s War’ পরিচালনা করে।
রাজতন্ত্রের পতনের পর শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রে ফিরে আসে এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে অংশ নেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা: শান্তিপূর্ণ জয়ের পথ
নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় সশস্ত্র শাখা গঠন করে।
পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় এবং ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিকভাবে তারা ক্ষমতায় আসে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সশস্ত্র আন্দোলন কখনোই প্রথম বা আদর্শ পছন্দ নয়।
তবে ইতিহাস বলে, যখন রাজনীতির স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন দলগুলো বিকল্প পথ খুঁজে নিতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে আওয়ামী লীগও এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—তারা কি প্রতিরোধের পথ নেবে?
নাকি গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে?
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে:
“আওয়ামী লীগের মতো সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তারা নিশ্চুপ থাকবে—এমন ভাবা অবাস্তব। ইতিহাস দেখায়, দমন পেছনের দরজা খুলে দেয় প্রতিরোধের।”
