ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন দলটির সকল কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকবে।
📅 প্রকাশের তারিখ : ১২ মে সোমবার ২০২৫;
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে গুম, খুন, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে সরকার। স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়।
🧾 মূল রিপোর্ট (সংক্ষিপ্ত সারাংশ):
সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ধারা ১৮(১) অনুযায়ী, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী, অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর পেছনে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দমনমূলক কর্মকাণ্ডে দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী মতাবলম্বীদের উপর পরিকল্পিতভাবে গুম, খুন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও ধর্ষণ চালানো হয়। এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত। সরকার মনে করছে, দলের চলমান কার্যক্রম বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, তাই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
⚖️ আইনি প্রেক্ষাপট ও আইন সংশোধন:
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রথমবার কোনো রাজনৈতিক দলকে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, দল বা সংগঠনকে শুধু বিচারের আওতায় আনা নয়, তাদের নিবন্ধন বাতিল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং কার্যক্রম স্থগিত/নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকবে।
🔥 আন্দোলনের সূত্রপাত ও চাপ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে এনসিপি সহ ইসলামী দলগুলো ও গণজাগরণধারার সক্রিয়তাতেই এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আসে। শাহবাগ ও যমুনার সামনে গণআন্দোলন এবং সরকারকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
🧭 ঐতিহাসিক পটভূমি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা:
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি দলটির জন্য ১৯৭৫ ও ২০০৭ সালের চেয়েও গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
