সরকারের আশ্বাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দফা দাবিনির্ভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। দ্রুত আবাসন, বাজেট বৃদ্ধি ও হামলার বিচারসহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউজিসি ও প্রশাসন।
চলমান চার দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। অবশেষে সরকারের আশ্বাসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে শুক্রবার (১৬ মে) রাত ৮টায় স্থগিত ঘোষণা করা হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ‘জবি ঐক্য’ প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন।
তিনি জানান,
“আমাদের দাবিগুলো যেহেতু মেনে নেওয়া হয়েছে, তাই আন্দোলন স্থগিত করা হলো। তবে বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
🏛️ দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ:
১. ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি চালু (২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে)
২. জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন ও বাজেট কাটছাঁট বন্ধ
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন
৪. ১৪ মে পুলিশের হামলার তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত
এই দাবিগুলোর মধ্যে শেষেরটি পরবর্তীতে যুক্ত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের আচমকা হামলার বিচার চাওয়া হয়। এতে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করে এবং সাত দিনের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
👥 প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী আশ্বাস দেওয়া হয়েছে?
- উপাচার্য ড. রেজাউল করিম বলেন, বাজেট বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী নির্মাণ দ্রুত শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজও এগিয়ে চলছে।
- ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ জানান, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—সব দাবি যৌথভাবে সমাধান করা হবে। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।”
🔍 বিশ্লেষণ:
এই আন্দোলন যেমন ছিল সংগঠিত ও শান্তিপূর্ণ, তেমনি এটি ছিল সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। বিশেষ করে রাজধানীভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট ও বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর আওয়াজ তুলেছে এই আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে আন্দোলন স্থগিত মানেই সমাপ্তি নয়। প্রশাসন ও ইউজিসি যদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আন্দোলনের সূত্রপাত হতে পারে।
