রাজধানীর গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিলের সময় আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ডিবি। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বিরুদ্ধে সরকার ফের কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজ রোববার (১৮ মে ২০২৫) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিলের সময় সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ)। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, আটককৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও, তারা সকলে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর আগস্টে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
📑 পটভূমি ও প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম-খুন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১২ মে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দলটির সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দলটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত,
- যেকোনো প্রচারনা,
- মিছিল, সভা-সমাবেশ,
- অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
📌 প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ:
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের আটকের ঘটনা বোঝায়—নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে নিচ্ছে। একদিকে এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বার্তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
এছাড়াও, সরকারের পক্ষ থেকে এটিও বলা হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর এবং যেকোনো আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
