পুঁজিবাজারের টানা দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা ঢাকায় কফিন মিছিল, গায়েবানা জানাজা ও রাস্তায় অবরোধ করেন। বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
আজ ১৮ মে ২০২৫, রবিবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয় বিনিয়োগকারীরা। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই ভবন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে তারা আয়োজন করেন কফিন মিছিল, রাস্তায় অবরোধ ও প্রতীকী গায়েবানা জানাজা।
বিনিয়োগকারীদের দাবি, পুঁজিবাজারে কয়েক মাস ধরে চলমান অব্যাহত দরপতনের পেছনে বিএসইসির ব্যর্থ নীতিমালা ও বাজার পর্যবেক্ষণে উদাসীনতা রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৩ লাখের বেশি সাধারণ বিনিয়োগকারী, যাদের পুঁজি হারিয়ে গেছে দিনের পর দিন।
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন জানান, "পুঁজিবাজার আজ এক স্বৈরাচারের আয়নায় বন্দী। আমরা আর এই পরিস্থিতি মেনে নেব না।"
তিনি বলেন, “আমাদের দাবি যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ না হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার যমুনা বাসভবনের সামনে দেশজুড়ে বিনিয়োগকারীরা জড়ো হবেন।”
বিক্ষোভকারীরা পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকটকে রাজনৈতিক সংকটের অংশ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন। সরকারের অনির্বাচিত চরিত্র ও বাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে।
শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও আগামী দিনে এই দাবির পক্ষে একযোগে বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
📌 বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব:
- বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- পুঁজিবাজারে নীতি ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ছাড়া এ ক্ষোভ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
- সরকারের উপর চাপ বাড়বে যদি বিনিয়োগকারীরা সংগঠিতভাবে আরও কঠোর আন্দোলনে নামেন।
