ডলারের আধিপত্যের পতন, গ্লোবাল সাউথের উত্থান, ক্রিপ্টো বন্ড এবং ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক শুল্ক নীতি নিয়ে ড. আরিফের বিশেষ সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ।
অধ্যাপক ড. আরিফ খান:
বর্তমান বিশ্ব এক নজিরবিহীন সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ও ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর যে ফিয়াট কারেন্সি এবং পশ্চিমা ঋণ-ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা বৈশ্বিক বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছিল, তা এখন এক গভীর কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর তৈরি করা প্রথাগত অর্থনৈতিক প্রেসক্রিপশন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মুক্তির চেয়ে বেশি ঋণের ফাঁদ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আরিফের সাম্প্রতিক এক তাত্ত্বিক গবেষণায় উদীয়মান বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার ভেতরের এই জটিল ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উন্মোচিত হয়েছে, যা নব্য-উদারতাবাদের আড়ালে নব্য-ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক মডেলের উত্থানকে নির্দেশ করে।
মার্কিন মুদ্রাসংকোচন রপ্তানি ও উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রাস্ফীতি ফাঁদ
প্রফেসর ডক্টর আরিফের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মুদ্রাসংকোচন রপ্তানি’ (Exporting Deflation) করার চতুর কৌশল।
ওয়াশিংটন মূলত নিজের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বাইরের বৈশ্বিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করে।
এর প্রধান হাতিয়ার হলো মার্কিন ডলারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অন্যান্য স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটানো।
যখন কোনো দেশ আইএমএফ বা বিদেশি ঋণের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ডলারের বিপরীতে নিজের মুদ্রার মান কমিয়ে দেয়,
তখন সাময়িকভাবে কিছু ঋণ পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
মুদ্রা অবমূল্যায়নের নেতিবাচক চক্র:
├── স্থানীয় মুদ্রার পতন -> আমদানিকৃত শিল্প কাঁচামালের আকাশচুম্বী উৎপাদন খরচ
├── কর বৃদ্ধি -> উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা
└── চূড়ান্ত পরিণতি -> জিডিপি (GDP) সংকোচন এবং তীব্র কর্মসংস্থান সংকট
এর ফলে অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে উৎপাদনশীলতা হারিয়ে সম্পূর্ণ ঋণ-ভিত্তিক এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীল একটি ‘ভোক্তা অর্থনীতিতে’ (Debt-based Consumer Economy) পরিণত হয়।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনানুষ্ঠানিক (Informal) খাতের সাথে যুক্ত দেশের ৮৫% সাধারণ মানুষ।

মেগা প্রকল্প বনাম সামাজিক খাতের উদ্দীপনা কর্মসূচির বৈপরীত্য
ডক্টর আরিফের মতে, নব্য-উদারতাবাদী (Neoliberal) অর্থনৈতিক নীতিগুলো মূলত দুটি প্রধান কারণে ব্যর্থ হতে বাধ্য।
প্রথমত, এটি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাতেই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতগুলোতে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়।
অনেকে মনে করেন, মেগা প্রকল্প বা নির্মাণ খাতের চেয়ে সামাজিক খাতে সরাসরি নগদ প্রণোদনা দেওয়া বেশি কল্যাণকর।
কিন্তু ড. আরিফ এই ধারণাকে অর্থনৈতিকভাবে ভুল প্রমাণ করেছেন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল মেগা প্রকল্প ছাড়া কোনো দেশই বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগীদের চেয়ে সস্তা মূল্যে পণ্য উৎপাদন করতে পারে না।
প্রয়োজনীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও শিল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না করে যদি জনগণের সামাজিক কল্যাণে কেবল নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়, তবে তা মানুষের তাৎক্ষণিক ক্রয়ক্ষমতা ও ভোগ বাড়ালেও বাজারে পণ্য সরবরাহ না থাকায় উল্টো তীব্র মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) ডেকে আনে। নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগই মূলত অর্থনীতিতে কার্যকর উদ্দীপনা বা স্টিমুলাস প্রোগ্রাম (Stimulus Programs) হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। অন্যথায় ক্রয়ক্ষমতার সমতা (Purchasing Power Parity) বা পিপিপি হ্রাস পেয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, যা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আসার পথ রুদ্ধ করে দেয়।
ক্রলিং পেগ বনাম ভাসমান বিনিময় হার: বাংলাদেশের কৌশল
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ড. আরিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডলারের মান কেবল সাধারণ বাজার চাহিদার ওপর নির্ভর করে না;
এটি বাণিজ্য ভারসাম্য, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর শর্তযুক্ত।
| বিনিময় হার নীতি | কার্যকারিতা ও কৌশলগত প্রভাব |
| ফ্লোটিং বা ভাসমান হার (Floating Rate) | মার্কিন ফেডারেল ব্যাংককে কৃত্রিম ডলার সংকট তৈরি করে চড়া সুদে ফিয়াট ডলারের সরবরাহ ধরে রাখার এবং উচ্চ বিনিময় হারের বাড়তি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। |
| ক্রলিং পেগ নীতি (Crawling Peg) | বাংলাদেশের মতো রপ্তানিমুখী দেশগুলোকে মার্কিন মুদ্রা কৌশলের আকস্মিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করে এবং বৈদেশিক রিজার্ভের একটি নিয়ন্ত্রিত ভারসাম্য বজায় রাখে। |
বিগত শতাব্দীতে অন্য দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করে মুদ্রাসংকোচন রপ্তানি করার জন্য ঋণ বিক্রি করা এবং সেই ঋণের টাকা আবার কম ফলনশীল মার্কিন বন্ড বাজারে ফেরত পাঠিয়ে রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করার যে সাম্রাজ্যবাদী যুগ ছিল, তা এখন শেষের পথে।
আইএমএফের মূল গেম প্ল্যানই হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চিরকাল ঋণগ্রস্ততার বৃত্তে আটকে রাখা।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটজ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড ইটস ডিসকন্টেন্টস”-এ স্পষ্টভাবে লিখে গেছেন যে,
দিনশেষে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ কোনো বিশুদ্ধ আর্থিক সংস্থা নয়, এগুলো মূলত পশ্চিমা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি, ডিপ স্টেট এবং আমেরিকার নতুন সভ্যতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান নীতিকে অনেকেই আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিন্ন বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
পেট্রো-ডলার বিশ্ব ব্যবস্থায় তার কার্যকারিতা হারানোর আগ পর্যন্ত আমেরিকানদের ডুবন্ত বৈশ্বিক আধিপত্যকে স্বল্প মেয়াদের জন্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ট্রাম্পই ছিলেন ওয়াশিংটনের একমাত্র বিকল্প।
আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট সিন্ডিকেট’ (Deep State Syndicate) নিজেদের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করার জন্যই ট্রাম্পকে ক্ষমতার কেন্দ্রে বেছে নিয়েছে।
এর ফলে এই সিন্ডিকেটের কিছু পুরনো নব্য-উদারতাবাদী শাখা ক্ষমতা হারাচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী নতুন কিছু শাখা বেশি শক্তিশালী হচ্ছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো—বিদেশি রপ্তানিকারক দেশগুলো যাতে আমেরিকার বিশাল ভোক্তাদের বাজার হারাতে না চায়।
ট্যারিফ এড়াতে চীন, ভারত বা ইউরোপের কোম্পানিগুলো এখন খোদ আমেরিকার মাটিতেই ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট বা কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে।
আমেরিকানরা মূলত ইউরোপের চেয়ে শিক্ষা, নৈতিকতা ও সভ্যতার দৌড়ে এখনও অনেক পিছিয়ে থাকলেও,
তারা জাতীয় স্বার্থের মাধ্যমে একটি নতুন নাগরিক চেতনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
গ্লোবাল সাউথের উত্থান: ডি-ডলারাইজেশন ও সোনার ব্যাকআপ
একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন হলো ‘ডি-ডলারাইজেশন’ (ডলার বর্জন) এবং ‘কারেন্সি সোয়াপিং’ (স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য),
যা বিশ্ব ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পুনর্গঠন ঘটাচ্ছে।
এক সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা আর্থিক সেবার যে পদক্রম (Hierarchy) ছিল, তা ভেঙে পড়েছে।
বর্তমান সূচকের শীর্ষে রয়েছে
বাস্তব সম্পদ ব্যবস্থাপনা (Asset Management), দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কর্পোরেট শেয়ার বাজার (Stock Market) এবং তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে প্রামূলক ব্যাংকিং সেবা।
বৈশ্বিক জিডিপি (GDP) শেয়ারের নতুন সমীকরণ:
├── গ্লোবাল নর্থ বা জি-৭ (G7) ব্লক: বৈশ্বিক জিডিপির মাত্র ৩২%
└── গ্লোবাল সাউথ (Global South) ব্লক: বৈশ্বিক জিডিপির ৪৬% নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বে
এই অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো এখন তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ হিসেবে ডলার-ভিত্তিক মার্কিন বন্ড রাখার পরিবর্তে খাঁটি সোনার (Gold Backup) ব্যবহার শুরু করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লব এবং টেকসই সবুজ জ্বালানি (Green Energy)। সৌরশক্তি, উইন্ডমিল, নিউক্লিয়ার ফিউশন এবং জিও-আর্থ প্রযুক্তির প্রসারের কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি বা শক্তি হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যা মুদ্রার ব্যাকআপ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানি বা পেট্রোলিয়ামকে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক করে তুলবে।
ভবিষ্যতে গ্লোবাল নর্থ-কে টিকে থাকতে হলে অটোমেশন, আইওটিএ (IOTA) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে মানুষের চেয়েও সস্তা খরচে পণ্য উৎপাদন করতে হবে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় বিশ্বনেতা সে-ই হবে, যে শ্রমিকবিহীন প্রযুক্তির সাহায্যে সস্তায় উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারবে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

৬ ট্রিলিয়ন ডলারের স্টেবল ক্রিপ্টো বন্ড এবং ইউএস ফেডের ছদ্মবেশ
ডিজিটাল মুদ্রার এই বৈপ্লবিক উত্থানের মুখে মার্কিন ফেডারেল ব্যাংক (Fed) তাদের ডলারের বাজার সম্প্রসারিত রাখার জন্য একটি সমান্তরাল ও ছদ্মবেশী আর্থিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে। ইউএস ফেড প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড দ্বারা সমর্থিত বা ব্যাকড ‘স্টেবল ক্রিপ্টো কয়েন’ (Stable Crypto Coin)-এর জন্য বিশেষ লাইসেন্স ইস্যু করছে।
তাদের মূল গেম প্ল্যান হলো—বিশ্বের মাইক্রো বা অণু স্তরের ক্রিপ্টো কারেন্সি ব্যবহারকারীদের বাধ্য করা যেন তারা ক্রিপ্টোর ব্যাকআপ হিসেবে ইউএস ট্রেজারি বন্ড কেনে এবং ফেডের নিয়মাবলী অনুসরণ করে।
এই ডিজিটাল ছদ্মবেশের মাধ্যমে আমেরিকা মূলত ম্যাক্রো বা স্থুল স্তরে ডলারের লেনদেন আরও প্রসারিত করতে চায়,
যা প্রকারান্তরে বিদেশী সরকারগুলোর কাছে থাকা ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন বৈদেশিক ঋণকে এক ফুঁৎকারে মুছে ফেলতে সাহায্য করবে।
তবে এই সমান্তরাল ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি হতে পারে এবং প্রথাগত ব্যাংকগুলো ক্রিপ্টো ওয়ালেটের ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশের সাথে টিকতে না পেরে আমদানিকারকদের সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
যার চূড়ান্ত ধাক্কা লাগবে শিল্প উৎপাদকদের শেয়ার মূল্যের ওপর।

নন-স্টেট অ্যাক্টরের অর্থায়ন:
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক লবিস্ট জ্যারেড কুশনার এবং এরিক ট্রাম্প এই নতুন ক্রিপ্টো বাজারে বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করেছেন। এমনকি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে (যেমন পাকিস্তানের আসিফ মুনির) মার্কিন অক্ষের পক্ষে এই ক্রিপ্টো ট্রানজেকশন সহজতর করার জন্য পর্দার আড়ালে কাজ চলছে। অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল অর্থের একটি বড় অংশ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবহির্ভূত পক্ষ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর (Non-state Actors) কাছে পৌঁছাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিক্রির বাজারকে এক নজিরবিহীন ও অস্থিতিশীল মাত্রায় উন্নীত করছে।
সম্পদ ভিত্তিক নতুন অর্থনীতির প্রত্যাশা
পরিশেষে বলা যায়, প্রফেসর ডক্টর আরিফের এই যুগান্তকারী সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণটি স্পষ্ট করে দেয় যে,
কাগুজে ফিয়াট ডলারের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকে শোষণ করার দিন ফুরিয়ে এসেছে।
আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের নব্য-উদারতাবাদী প্রেসক্রিপশন অন্ধভাবে গিলে ফেলার মাশুল দিতে হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন খাত সংকুচিত হওয়ার মাধ্যমে।
ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই, যারা প্রাকৃতিক সম্পদ, এআই অটোমেশন এবং স্বাধীন সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করতে পারবে।
বাংলাদেশের মতো রপ্তানিমুখী অর্থনীতিগুলোকে মার্কিন ডলারের কৃত্রিম ফাঁদ এবং আইএমএফের শর্তযুক্ত ঋণের শৃঙ্খল থেকে বাঁচতে হলে অবিলম্বে গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান স্বর্ণ-সমর্থিত আর্থিক ব্যবস্থার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে এবং নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক ড. আরিফ খান
সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য
