ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নাট্যকর্মী প্রশান্ত হালদারের বাড়িতে মধ্যরাতে আগুন দিয়েছে জামাত-শিবির ও হিজবুত তাহেরি জঙ্গিরা। সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর এই ধরনের হামলা কি নতুন উগ্রবাদের চিত্র?
বিশেষ প্রতিনিধি: স্বপ্নীল আর্য;
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে ভয়াবহ এক জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন নাট্যদল ‘অনুস্বর’-এর নির্বাহী সম্পাদক ও নাট্যকর্মী প্রশান্ত হালদার। তাঁর গ্রামের বাড়িতে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা মুখোশধারী ছিল এবং তারা আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র তছনছ করে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা জামাত-শিবির ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহেরির সদস্য। তারা সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে।
ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার নিরাপত্তা চেয়েও সাড়া পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশান্ত হালদার একজন সংস্কৃতিকর্মী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নাট্যচর্চা দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদী গোষ্ঠীর চোখে ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে তাকে ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষ করে তথাকথিত ইউনুস সরকারের আমলে এসব গোষ্ঠী আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
🔍 অনুসন্ধান:
- হিজবুত তাহেরি: একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন, যাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, উগ্রবাদী প্রচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
- জামাত-শিবির: রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেও, তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে উগ্র মতাদর্শ প্রচার ও সহিংসতায় জড়িত বলে একাধিক প্রতিবেদনে এসেছে।
- সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে আগুন, হামলা ও ভূমি দখলের ঘটনা বেড়ে চলেছে, যার পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া রয়েছে বলে অভিযোগ।
