সেনাবাহিনী প্রধানের সতর্কবার্তাকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানবিক করিডোরের নামে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। বন্দর কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সেনাবাহিনী প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও রাষ্ট্ররক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন— “মানবিক করিডোরের নামে যদি তৃতীয় রাষ্ট্রের অনুপ্রবেশ বা প্রভাব বিস্তার ঘটে, তাহলে তা দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। একটি বন্দর কখনো কেবলমাত্র অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়—এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত।”
সালাউদ্দিন আরও যোগ করেন—
“সেনাবাহিনী প্রধান যা বলেছেন, তা দেশের স্বার্থেই বলেছেন। এটি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং একটি কৌশলগত বাস্তবতা। এখন সময় এসেছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে ঐক্য গড়ে তোলার।”
📌 প্রেক্ষাপট ও প্রাসঙ্গিকতা:
সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত একটি ‘মানবিক করিডোর’ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে সেনাবাহিনী প্রধান কৌশলগত সতর্কতা ও রাষ্ট্রীয় কর্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন,
“দেশ বাঁচানোর জন্য যা প্রয়োজন, সেনাবাহিনী তা-ই করবে।”
এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে এবং নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়। এর মধ্যেই বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য সমর্থন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
📉 জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বন্দর সংযোগ:
বিশ্লেষকদের মতে, একটি বন্দর আন্তর্জাতিক বানিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হলেও এর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ যদি তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যায়, তাহলে কৌশলগতভাবে দেশ বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দর কিংবা স্থলবন্দর ব্যবহারে বিদেশি আগ্রহ থাকলে তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন—
“আমরা চাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বন্ধুতা বজায় রাখুক, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যেন দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার বিনিময়ে না হয়।”
তিনি সরকারকে আহ্বান জানান— “কোনো চুক্তি বা সহযোগিতা করার আগে জাতীয় সংসদে বিতর্ক ও জনমত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
বিএনপির মতো একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে সমর্থন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান—রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের সম্ভাবনাকে জোরদার করছে।
মানবিক করিডোর নিয়ে সরকারকে আরও স্বচ্ছতা ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করছে এই বার্তা।
