যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে সামরিক উপস্থিতি গড়ার কথা ভাবছে চীন। এর ফলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ প্রতিনিধি: স্বপ্নীল আর্য;
চীন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্তত ১৯টি দেশে সামরিক উপস্থিতি গড়ার কথা বিবেচনা করছে—এমনই এক বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে। “২০২৫ ওয়ার্ল্ডওয়াইড থ্রেট এসেসমেন্ট” শীর্ষক এই প্রতিবেদনে চীনের বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক কৌশল ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।
চীনের কৌশল ও সামরিক পরিধি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন কেবলমাত্র দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর দীর্ঘমেয়াদি বিদেশী মোতায়েন সক্ষমতা তৈরি করছে এবং নতুন সরবরাহ ও লজিস্টিক চেইন গড়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন সামরিক আধিপত্যকে টেক্কা দেওয়ার কৌশলেরই অংশ। ডিআইএ-র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাজিকিস্তান, কিউবা, নাইজেরিয়া, তানজানিয়া, গ্যাবন, মোজাম্বিক, গিনি, নামিবিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির মতো দেশগুলোতে PLA-র কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা চীন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম থাকলেও, সরাসরি কোনো সামরিক স্থাপনা স্থাপনের পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তবে মার্কিন পক্ষের আশঙ্কা, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে চীনের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)” প্রকল্পে বাংলাদেশের ভূমিকা চীনকে এখানে একটি স্ট্র্যাটেজিক লজিস্টিক হাব স্থাপনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
এ ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে, PLA বিদেশি ভূমিতে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, স্থায়ী ঘাঁটি, গ্যারিসন ফোর্স এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামোর মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জোরদার করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে চীন তানজানিয়ায় একটি বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যেখানে আকাশ ও সমুদ্রপথে এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। এটি আফ্রিকার মাটিতে চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়।
📍 দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণ?
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন সামরিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে এই সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
