ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে ইউপিডিএফ-এর বৈঠক ঘিরে নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা কতটা বৈধ ও নিরাপদ—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর বৈঠককে কেন্দ্র করে। সোমবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, “যারা রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবং স্বশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী, তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে সমীচীন নয়।” তিনি ইউপিডিএফ-কে “আত্মস্বীকৃত টেরোরিস্ট গ্রুপ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এরা পার্বত্য অঞ্চলে সংঘাত ও সহিংসতার জন্য পরিচিত।”
সেনাবাহিনীর অবস্থান: “জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে চুপ থাকা যাবে না”
সংবাদ সম্মেলনে করিডোর ব্যবহার, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এবং স্টারলিংক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও সেনাবাহিনীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এসব ইস্যুতে সেনাবাহিনীর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—“সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার”।
ইউপিডিএফের অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF) দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যমত্য কমিশনের ঘরোয়া আলোচনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির যুক্তিতে এ ধরনের বৈঠক অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
ঐক্যমত্য কমিশনের ভূমিকা ও সভার বিবরণ
উল্লেখ্য, ঐক্যমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া প্রমুখ। ইউপিডিএফ প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাইকেল চাকমা, অমল ত্রিপুরা, জিকো ত্রিপুরা ও সুনয়ন চাকমা।
এই বৈঠকের সরকারি কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, কিন্তু বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নজরে আসে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা: “এটা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হতে পারে”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা অস্ত্র নিয়ে রাজনীতি করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখে না, তাদের রাষ্ট্রীয় আলোচনায় জায়গা দিলে তা ভবিষ্যতে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার বৈধতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকাকে উপেক্ষা করে নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এবং সেনাবাহিনীর সতর্ক বার্তাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-প্রক্রিয়া এখন আর কেবল উন্নয়ন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
