বিশ কোটি টাকা খরচ করে একটি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড কেনার অভিযোগ উঠেছে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। লবিস্ট চক্র ও বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত এ চেষ্টার নেপথ্যে কী?
নিউজ ডেস্ক | ১৩ জুন ২০২৫;
এক সময় ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন সমালোচনার মুখে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিশ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড কিনেছেন, যা আদতে কোনো নিরপেক্ষ বা মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি নয়, বরং একটি লবিস্ট চক্রের বাণিজ্যিক ফাঁদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তথাকথিত পুরস্কার অর্জনের পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত প্রচার ও পিআর কৌশল।
মূল উদ্দেশ্য—আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে ‘মানবতার প্রতীক’ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহার করা।
অ্যাওয়ার্ড নয়, এটি একটি লবিস্ট চুক্তির ফসল
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যাওয়ার্ডটি এসেছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে, যেখানে কেবল নামমাত্র আবেদন নয়, বরং মোটা অংকের “অংশগ্রহণ ফি” দিলেই পুরস্কার পাওয়া যায়। এটি মূলত একটি প্রি-প্যাকেজড পিআর প্রডাক্ট, যেখানে অংশগ্রহণকারী নিজেই অর্থ প্রদান করে নিজেকে ‘পুরস্কৃত’ করায়।
এই অ্যাওয়ার্ডের আয়োজকরা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ‘ইমেজ বিল্ডিং’, ‘ইউরোপীয় যোগাযোগ’, এমনকি রাজার সঙ্গে ‘ফটোসেশন’ প্যাকেজও যুক্ত রাখে। এতে অর্থ ব্যয় করলে পুরস্কার নিশ্চিত, আর বিশ্বমিডিয়ায় হাইলাইট হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইউনূসের উদ্দেশ্য কী?
নির্দিষ্টভাবে, ড. ইউনুস এই পুরস্কার কিনে মূলত নিচের লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চেয়েছেন:
- নিজেকে আবারও আন্তর্জাতিক নায়কের আসনে বসানো
- পশ্চিমা শক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ
- বাংলাদেশে রাজনৈতিক ‘মার্কেটিং’
- বিচারাধীন মামলাগুলো থেকে ‘মানবিক প্রতিচ্ছবি’র মাধ্যমে সহানুভূতি অর্জন
নৈতিক পতন ও জনবিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত
যখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, মানুষ পণ্যসামগ্রীর উচ্চমূল্য ও বেকারত্বে কষ্ট পাচ্ছে—তখন একটি বিতর্কিত ব্যক্তি নিজের স্বার্থে বিশ কোটি টাকা ব্যয় করছেন বিদেশি প্রচারণায়। এটি শুধুই নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং একটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী জনগণ এমন আত্মপ্রচারে আস্থা রাখে না। তারা জানে কে গরিবের পাশে আছে, আর কে বিদেশি স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ড. ইউনুস হয়তো নোবেল পেয়েছেন, কিন্তু জনগণের ভালোবাসা নয়—রাজনৈতিক চাতুরী দিয়ে ইতিহাসে টিকে থাকা যায় না।
ড. ইউনুসের ২০ কোটি টাকার এই ‘অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য’ শুধু ব্যক্তি নয়, একটি চিন্তার দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে। এটি প্রমাণ করে, অর্থ দিয়ে সম্মান কেনা গেলেও আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা যায় না।
আর এ জাতি এখন আর অন্ধ নয়—তারা জানে কে ‘জনগণের বন্ধু’ আর কে ‘পদকের দাস’।
