
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকাবাসী ব্যানারে নগর ভবনে আবারও অবস্থান কর্মসূচি চলছে। ‘ইশরাক ইশরাক’ স্লোগানে উত্তাল পুরো এলাকা। বিশ্লেষণে উঠে এলো রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক সংকট।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের অনুমতি না দেওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আবারও ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে ইশরাকপন্থি কর্মচারী ও সমর্থকেরা টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পুরো ভবনজুড়ে চলছে ‘ইশরাক ইশরাক’ ধ্বনি।
📍 অবস্থান কর্মসূচির চিত্র
গতকাল (৭ জুন) সকাল ১১টায় নগর ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে আসেন সেখানে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও স্লোগানে মুখর থাকে নগর ভবন প্রাঙ্গণ:
- ‘ইশরাক তোমার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’
- ‘শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবে না’
- ‘আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ চাই’
🗣️ বক্তব্য ও অভিযোগ
আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান বলেন:
“আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসররা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে চাকরি করতে পারবে না। সরকারকে ১৪ মে-তে জানানো হয়েছিল—ইশরাক হোসেনই ঢাকাবাসীর নির্বাচিত মেয়র। এর পরেও তাঁকে দায়িত্ব না দিয়ে গণইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন চললেও নাগরিক সেবা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেটি ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
🧹 নগর কার্যক্রম: নেতৃত্বে ইশরাক
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন গতকাল মশক নিধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি ৭০টি ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও ওয়ার্ড সচিবদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
তাঁর অনুগত কর্মচারীরা বলছেন, “দায়িত্ব না পেয়ে সরে না গিয়ে দায়িত্ব নিয়েই মাঠে নেমেছেন ইশরাক।”
⚖️ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব না দেওয়ায় সরকার ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একই সঙ্গে, একটি সাংবিধানিক দপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘দলীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ’ আরও দৃঢ় হচ্ছে।
এ আন্দোলন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা ঢাকার নগর প্রশাসনে বিভ্রান্তি ও দ্বৈত শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।
নগর ভবনের এই আন্দোলন এখন আর শুধু ইশরাকপন্থীদের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হয়ে উঠেছে গণচাপ, দায়িত্ববন্টন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।
সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—জনতার দাবির মুখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করা, না প্রশাসনিক প্রভাব বলয়ে তা দমন করা।
