
১৯৭১-এর রাজাকাররা কি শেষ হয়ে গেছে? বিশ্লেষকদের মতে, তারা আজ নতুন মুখোশে ফিরে এসেছে সমন্বয়কের ছায়ায়—ড. ইউনুসের নেতৃত্বে। আধুনিক রাজাকারদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ধর্মীয় উগ্রবাদের ছায়া ঘন হচ্ছে বাংলাদেশে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকার বাহিনীর নৃশংসতা ইতিহাসের রক্তাক্ত অধ্যায়। তারা টিক্কা খানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে—সেই চক্র কি বিলীন হয়েছে, নাকি তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ঢুকে নতুন ছদ্মবেশে ফিরে এসেছে?
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নটি আর শুধু অনুমান নয়—এটি এখন বাস্তবতা। বর্তমান বাংলাদেশে NCP, ইনকিলাব মঞ্চ, হিজবুত তাহরীর, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, শিবির-ঘনিষ্ঠ এনজিও এবং তথাকথিত “সমন্বয়ক” প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিশ্লেষকরা বলছেন ৭১-এর রাজাকার চক্রের নব রূপ।
🧠 পুরনো রূপ বনাম নতুন মুখোশ:
| ১৯৭১ | ২০২৫ |
|---|---|
| টিক্কা খানের রাজাকার বাহিনী | ইউনুসের ছায়ায় এনজিও-নির্ভর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম |
| বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ | ডিজিটাল গুম, টার্গেট কিলিং ও পুলিশ হত্যা |
| ইসলামকে রাজনৈতিক অস্ত্র করা | ধর্মীয় উগ্রবাদে ‘ইনফো-ওয়ারফেয়ার’ |
| সরাসরি সশস্ত্র গোষ্ঠী | এনজিও-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক ও মিডিয়া প্রভাব |
💣 সাম্প্রতিক সহিংসতা ও চক্রান্ত:
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অরাজকতা, সরকারবিরোধী সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলার পেছনে এই চক্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই হাটহাজারী, টেকনাফ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোপন প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়নের প্রমাণ মিলেছে।
🌐 আন্তর্জাতিক সংযোগ ও তহবিল চক্র:
এই শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও এনজিও মুখোশে কাজ করে। বিদেশি দাতাদের অর্থে তারা ‘সুশীল’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ধর্মীয় উগ্রতা ছড়ানো, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানো ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।
📢 চূড়ান্ত বার্তা:
৭১-এ রাজাকারদের পরাজয় হয়েছিল অস্ত্রের মুখে, কিন্তু আজকের ‘সমন্বয়ক রাজনীতি’ তথ্য, অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে নতুন ধরনের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। এদের মোকাবিলা না করলে বাংলাদেশ তার আদর্শ ও স্বাধীনতা হারাবে ছায়া দখলদারদের হাতে।
👉 এখন সময় এসেছে মুখোশ সরিয়ে আসল চেহারা শনাক্ত করার। কারণ, ইতিহাসের রাজাকাররা বদলে গেছে—শুধু মুখোশে, উদ্দেশ্যে নয়।
