শরণার্থীর ছদ্মবেশে প্রশিক্ষিত রোহিঙ্গাদের দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। এনজিও, আন্তর্জাতিক শক্তি ও ইউনুসপন্থীদের গভীর সংশ্লিষ্টতা এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হুমকি।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেমন মানবিকতার ইতিহাস গড়েছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে সেই মানবিকতা আজ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিপজ্জনক ছুরি।সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (ARSA) এক সদস্যের স্বীকারোক্তি যেন একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মুখ খুলে দিয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতে সংগঠিত সহিংসতায় সরাসরি অংশ নেয় প্রায় দেড় লক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ছিল একটি বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্র, যার নেতৃত্বে ছিল আন্তর্জাতিক এনজিও চক্র, কিছু দাতা সংস্থা ও দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আগ্রহী গোষ্ঠী।
২০২৩ সাল থেকেই নির্দিষ্ট কিছু ক্যাম্পে গোপনে চালানো হয় ‘লিডারশিপ ট্রেনিং’ এবং রাজনৈতিক মনোভাব ও সহিংস কৌশল শেখানো হয় রোহিঙ্গা তরুণদের।
এই প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা দেয় এমন কিছু দাতা সংস্থা, যাদের সঙ্গে ড. ইউনূস ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত—এমন অভিযোগও এখন দৃশ্যমান। লক্ষ্য ছিল একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সংকট’ তৈরি করে শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করা।
২০২৪ সালের সহিংস আন্দোলনে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গারা শুধু ঢাকায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
পুলিশ হত্যা, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন বিচ্ছিন্ন করা, লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় ভবনে হামলার ঘটনায় তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।
এটি আর সাধারণ শরণার্থী সমস্যার পর্যায়ে নেই—এটি এখন রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট রূপ।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইউনুস সরকারের আমলে পাসপোর্ট ও এনআইডি কার্যক্রম থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিপজ্জনক। এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সহজেই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।
তারা এখন কেবল ক্যাম্পে নয়, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ভিতরে ঢুকে পড়েছে। এক ভয়ানক ছদ্মনাগরিক চক্র গড়ে উঠেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত দেরি?বাংলাদেশ আজ এক বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি, যার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী এবং শরণার্থীর ছদ্মবেশে লুকানো এক সশস্ত্র অপারেটিভ শক্তি।
সরকারকে এখনই রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এনজিওগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে এনআইডি/পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো কার্যক্রমে জড়িত প্রশাসনিক গাফিলতির দিকে।
শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের জন্য দেড় লাখ রোহিঙ্গার ব্যবহার নিছক একটি ঘটনার নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং বহুস্তরীয় রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ।
এটি থামাতে হলে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় কঠোরতা, তথ্যভিত্তিক তদন্ত এবং মানবিকতার আড়ালে গড়ে ওঠা এই নতুন সন্ত্রাসী বাস্তবতা মোকাবিলা।
