
মিরপুরে জিন্স প্যান্ট পরার কারণে নারীকে লাঞ্ছিত করেছে মৌলবাদীরা। জুলাই ষড়যন্ত্রের পর নারীদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে। সরকার কি প্রতিরোধ করবে?
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
জুলাই ষড়যন্ত্রের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে নারীর পোশাক ও চলাফেরার স্বাধীনতার উপর।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ২৬ জুন ২০২৫ দুপুরে একজন নারীকে শুধুমাত্র জিন্স প্যান্ট পরার অপরাধে মৌলবাদী একদল যুবক প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৌলবাদীরা ‘নারীর পশ্চিমা পোশাক হারাম’ বলে চিৎকার করে পানের পিক ছুঁড়ে মারেন এবং শারীরিকভাবে ভয় দেখাতে থাকেন। ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এই ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো সহিংসতা নয়—জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারী স্বাধীনতার উপর নেমে আসা এক পরিকল্পিত মৌলবাদী সন্ত্রাসের প্রতিচ্ছবি।
সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের প্রকাশ্য পোশাক নিয়ে কটুক্তি, শারীরিক হয়রানি এবং ধর্মীয় ‘নীতি’র নামে বিচার বসানো যেন বেড়েই চলেছে। হেফাজত এবং এনসিপি-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী একযোগে মৌলবাদী সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।
এমনকি, সারোয়ার তুষার নামক এক জুলাইপন্থী নেতার নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলেও, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রমাণিত হয়—নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ইউনূস নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই।
🚨 গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহ:
- মিরপুরে একজন নারীকে জিন্স প্যান্ট পরার কারণে মৌলবাদীরা লাঞ্ছিত করেছে
- পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ব্যবস্থা নেয়নি
- এনসিপি নেতা ও জুলাইপন্থীরা মৌলবাদীদের উসকে দিচ্ছে
- নারীর স্বাধীনতা ও শিক্ষা-মেধা চর্চা বিপন্ন
- সরকারের নীরবতা মৌলবাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে
বাংলাদেশের নারী স্বাধীনতা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। মৌলবাদ, জুলাই ষড়যন্ত্র এবং নারীবিদ্বেষী রাজনীতির চাপে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে রাষ্ট্র। এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে—সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার কর্মী এবং সচেতন তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
নারী স্বাধীনতা মানে জাতির সম্মান—যে মৌলবাদ এর উপর আঘাত করে, সে দেশের শত্রু।
