তিন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার হঠাৎ বাংলাদেশ সফরে এসেছেন নতুন এক বছরের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে। তারা যাচ্ছেন রামু সেনানিবাসে। কী উদ্দেশ্য? ঢাকায় কূটনৈতিক চক্র ও সেনা গোয়েন্দাদের মধ্যে বাড়ছে সন্দেহ।
হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা মহলে। ২৯ জুন ২০২৫, বিকেল ৫:২৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের EK-586 ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। সুসজ্জিত, মেশিনরিডেবল নতুন পাসপোর্টধারী—যারা সরাসরি চলে গেছেন কক্সবাজারের কাছে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর সেনা ঘাঁটি, রামুতে।
তিন জেনারেলের পরিচয়:
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাদিম আহমেদ
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ তালহা
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঊদ আহমেদ রাও
তাদের পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে যথাক্রমে এপ্রিলের শেষে, মে মাসের মাঝামাঝি ও শেষে। পাসপোর্টগুলোর মেয়াদ এক বছরের, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয়, এগুলো বিশেষ কার্যক্রমের জন্য তৈরি—সম্ভবত আন্ডারকভার অপারেশন।
এই তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদর দপ্তর রামুতে যাচ্ছেন। অথচ, রামু সেনানিবাসকে সম্প্রতি (এপ্রিল ২০২৫ থেকে) একটি অতিসংবেদনশীল মিলিটারি হাব হিসেবে রূপ দেওয়া হয়েছে—আরাকান আর্মির (AA) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সমন্বয় গড়ে তোলার পটভূমিতে।
“এই তিনজন নিঃসন্দেহে আন্ডারকভার। না হলে তারা রামু সেনানিবাসে কেন যাবেন?” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল।
পাকিস্তানি মেডিকেল কোরের কর্মকর্তারা সেনা মেডিক্যাল বোর্ডের বাইরেও কেন উচ্চ সামরিক ঘাঁটিতে যাচ্ছেন?
তাদের এক বছরের সীমিত মেয়াদের পাসপোর্ট কি কেবলমাত্র “ডিপ্লোম্যাটিক ডিউটি”র আড়ালে কোনও আন্ডারকভার প্রকল্প?
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ আর পাকিস্তান-চীন মৈত্রীর ফাঁকে পড়ে, কী বাংলাদেশে নতুন ভূরাজনৈতিক খেলায় রামু পরিণত হচ্ছে “গেম চেঞ্জার” ঘাঁটিতে?
ব্যাকগ্রাউন্ড: রামুর ভেতরকার প্রস্তুতি
- কক্সবাজার-আরাকান সীমান্তে অপস্মরণযোগ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা।
- AA (আরাকান আর্মি)-কে রসদ সহযোগিতার মাধ্যমে মিয়ানমার-চীন সীমান্তে উলটপালট সৃষ্টি করার আশঙ্কা।
- রামুতে মার্কিন এবং ভারতীয় গোয়েন্দা আগ্রহ ক্রমবর্ধমান।
তিন পাকিস্তানি কর্মকর্তা ৫ জুলাই, দুবাই হয়ে পাকিস্তানে ফিরবেন। তার আগে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর DGMS, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের দপ্তর এবং আরও কয়েকটি ইউনিটের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রশ্ন হলো—তারা কী আদান-প্রদান করছেন, কারা এই মিটিংয়ে আছেন?
এই সফর নিছক কূটনৈতিক বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নয়—বরং এটি একটি গভীরতর ভূরাজনৈতিক গেমপ্ল্যানের অংশ। পাকিস্তান, চীন, মিয়ানমার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংঘাতে বাংলাদেশ যেন হয়ে না পড়ে এক অনিচ্ছাকৃত যুদ্ধক্ষেত্র। রামুর পটভূমিতে ঘনীভূত হচ্ছে ষড়যন্ত্রের ধোঁয়া—আর তার ধাক্কায় কাঁপছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোররুম।
