যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠন করলেন ইলন মাস্ক। তিনি বলেন, দেশকে একদলীয় শাসন থেকে মুক্ত করতেই তার এই উদ্যোগ।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এই দলকে ‘দেশকে একদলীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
‘একদলীয় শাসন চলছে’: মাস্কের অভিযোগ
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ মাস্ক বলেন:
“আমাদের দেশকে অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেউলিয়া করার বিষয়টি দেখলে মনে হয় আমরা একদলীয় ব্যবস্থায় বাস করছি।”
তিনি বলেন, ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হয়েছে জনগণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে এবং দুর্বল ও অপদার্থ আইনপ্রণেতাদের চ্যালেঞ্জ করতে।
ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও রাজনীতিতে প্রবেশ
সাবেক মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ‘ঘরোয়া ব্যয়ের বিল’ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই ইলন মাস্কের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপের সূচনা। তিনি এই বিলকে ‘ঋণের দাসত্ব’ বলেও অভিহিত করেন এবং ঘোষণা দেন,“আমরা সেই আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করব যারা এই বিলে ভোট দিয়েছে।”
ট্রাম্প পাল্টা হুমকির মাধ্যমে বলেন, মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।
জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে মাস্ক এক জরিপ চালান যেখানে ১২ লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নেয়।
প্রায় ২:১ ব্যবধানে উত্তরদাতারা নতুন রাজনৈতিক দল চান বলে জানালে মাস্ক তাৎক্ষণিকভাবে ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন।
রণকৌশল: ‘লেজার ফোকাস’
মাস্ক জানান, তার রাজনৈতিক রণকৌশল হবে মাত্র কয়েকটি দুর্বল সিনেট ও হাউস আসনে লেজার-ফোকাস করা, যাতে আইন প্রণয়নের ভারসাম্যে তারা প্রভাব ফেলতে পারে।
“২–৩টি সিনেট ও ৮–১০টি হাউস আসনে যদি আমরা লক্ষ্য ঠিক করি, তাহলে বড় পরিবর্তন সম্ভব।
সম্ভাব্য প্রভাব: ভোট ভাগের ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সাধারণত প্রধান দলগুলোর ভোট ভাগ করে দেয়। যেমন ১৯৯২ সালে রস পেরোটের প্রার্থিতা রিপাবলিকানদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
একজন এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন:
“আপনি রস পেরোটের মতো আচরণ করছেন, আর সেটা আমার ভালো লাগছে না।”
ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ প্রেসিডেন্সিয়াল ভোটে তার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের দুইদলীয় ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।
তবে এটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে সফল হবে, নাকি ভোট বিভাজন ঘটিয়ে অন্য পক্ষকে সাহায্য করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
