সম্প্রতি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সন্ত্রাস সংশ্লিষ্টদের হাতে এসব পাসপোর্ট পৌঁছনোর অভিযোগে দেশি-বিদেশি মহলে উদ্বেগ।
_মুক্তিবার্তা৭১
বাংলাদেশে সম্প্রতি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু ব্যক্তির হাতে সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত পাসপোর্ট পৌঁছে যাচ্ছে—যা জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা—সব কিছুকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট কী?
কূটনৈতিক বা ‘ডিপ্লোমেটিক’ পাসপোর্ট সাধারণত রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কূটনীতিক ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়।
এই পাসপোর্টধারীরা আন্তর্জাতিকভাবে কিছু বিশেষ সুবিধা পান। কিন্তু যদি এই পাসপোর্ট অনুপযুক্ত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের হাতে যায়, তবে তা একটি রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
অভিযোগের উৎস ও প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি বা রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত চরমপন্থীদের হাতে এসব পাসপোর্ট পৌঁছেছে।
যদিও এ বিষয়ে সরকারি তরফে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি, তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই সচেতন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা কী বলছেন?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,
“যদি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বা উচ্চ-ঝুঁকির ব্যক্তিদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রদান করা হয়, তাহলে তা শুধু দেশের নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য হুমকি।”
অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে কি?
এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালে একাধিক মামলায় দেখা গেছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তাদের আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সরকারি পাসপোর্ট সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু তদন্ত সাপেক্ষে এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্নে এই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
প্রস্তাবনা:
- পাসপোর্ট ইস্যু প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য করা
- সংশ্লিষ্ট নথি গণপ্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চুক্তি ও নিরাপত্তা নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা
