ঢাকার শাহবাগে প্রজন্ম চত্বর ধ্বংস করল ড. ইউনূস প্রশাসন। এটি কি ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলার প্রচেষ্টা?
_মুক্তিবার্তা৭১
“ইট-পাথর গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস কি কখনও ধ্বংস করা যায়?”
শনিবার রাতের গভীর অন্ধকারে ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রজন্ম চত্বরকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন। এই স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনাকে দেশের নাগরিকরা দেখছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে।
🔥 ইতিহাস মুছে ফেলার ধারাবাহিকতা:
২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুই ছিল শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। এটি কেবল একটি স্থাপনা ছিল না—এটি ছিল আশা, চেতনা ও প্রতিরোধের প্রতীক।
এই ধ্বংসকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে ড. ইউনূসের প্রশাসনের অধীনে দুই হাজারের বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্থাপনা ও বঙ্গবন্ধুর ৩ শতাধিক ম্যুরাল-ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি বিজয় স্মরণীর ৭টি ঐতিহাসিক “ওয়াল অব ফেইম”-ও নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।
🎙️ প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা বলেন—
“প্রজন্ম চত্বর আমাদের প্রজন্মের চেতনার অংশ। বুলডোজারে তা ভেঙে ফেলা মানে আমাদের আত্মপরিচয়ে আঘাত হানা।”
📚 ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মির্জা মাহবুব বলেন—
“এই পদক্ষেপগুলো প্রতিহিংসার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। এটি শুধু ইতিহাস নয়, জনগণের ঐক্য ও আত্মপরিচয়কেও ভাঙার প্রচেষ্টা।”
🧭 জাতির সামনে এখন প্রশ্ন:
প্রশ্ন জাগছে—“এভাবেই কি ইতিহাস মুছে ফেলা যায়?”
না কি জনগণের চেতনায় এই ইতিহাস আরও গাঢ় হয়ে ফিরে আসে?
প্রজন্ম চত্বর ধ্বংসের মাধ্যমে একমাত্র স্থাপনা নয়, জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের প্রেরণা কখনো কেবল ইট-পাথরে আটকে থাকে না—এটি গড়ে উঠে মানুষের হৃদয়ে, আন্দোলনে, এবং কণ্ঠে।
