ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৫: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সামাজিক সংকটের নাম হয়ে উঠছে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি। ছোটখাটো অপরাধ সন্দেহে সাধারণ মানুষই নিজের হাতে বিচার করতে শুরু করেছে। এতে করে বেড়ে যাচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বিচার ও নিরপরাধ ব্যক্তির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা।
বিচার ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা, নাকি রাগের বিস্ফোরণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, পুলিশি তদন্তে ধীরগতি ও অনেক সময় বিচার না হওয়াই এই ‘মব জাস্টিস’ সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি রাগ ও হতাশার সামাজিক প্রতিফলন।
শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১৮টি গণপিটুনির ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই গুরুতর আহত। এদের মধ্যে কিছু নিরপরাধ মানুষও রয়েছেন, যারা কেবল সন্দেহের বশে আক্রান্ত হয়েছেন।
আইন কী বলে?
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী; কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা পুলিশ বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জনগণের একাংশ নিজেই ‘বিচারক’ হয়ে উঠছে।
“মব জাস্টিস মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক চরম দৃষ্টান্ত।” — মানবাধিকার কর্মী।
সোশ্যাল মিডিয়া ও গুজবের ভূমিকা
অনেক ক্ষেত্রে মব জাস্টিসের ঘটনাগুলো শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব থেকে যেমন, ‘শিশু চোর’, ‘চুরি করেছে’, ‘ধর্ষক’ — এমন লেবেল দিয়ে মুহূর্তেই কাউকে টার্গেট করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন- যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাউকে অভিযুক্ত করে আক্রমণ চালানো পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সরকারি উদ্যোগ ও সমাধান
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু এসব প্রতিরোধে দরকার সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রতিটি ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাধারণ মানুষের আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
মব জাস্টিস এখন আর শুধু একটি শব্দ নয় — এটি একটি সামাজিক সংকট। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
