প্রসঙ্গ: ব্যাংক খালি, চাপাবাজির ব্যাঙ্ক ফিলিং এবং টাকা পাচার নাটক। মিলছেনা হিসাব !
৫ আগস্টের পর থেকে দেবপ্রিয় বাবু তার শ্বেতপত্রে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের দাবি করেছেন, আর সেই সাথে ইউনুচ সাহেবের বিশেষজ্ঞ ভাষ্য—দুবাইয়ে নাকি পাচার হয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলার।
এখন যদি এই দুই অর্থনীতির গুরু সত্য বলেন, তাহলে ৮ মাসে তো অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার বাঁচার কথা, কারণ বর্তমান সরকার তো “অসাধারণ সুশাসনে” পাচার বন্ধ করে দিয়েছে, তাই না?
চলুন এবার মেলাই তথ্যের অঙ্কপত্র:
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বলছে:
জুলাই ২০২৪: রিজার্ভ = ২০.৩ বিলিয়ন ডলার
মার্চ ২০২৫: রিজার্ভ = ২০.২৮ বিলিয়ন ডলার
মানে কি দাঁড়ালো? যে সরকার নাকি পাচার বন্ধ করেছে, তার আমলে রিজার্ভ বাড়েনি, বরং কিঞ্চিৎ কমেছে।
তাহলে দুইটাই একসাথে সত্যি হতে পারে না!
অর্থাৎ— ১. যদি দেবপ্রিয় ও ইউনুচ সাহেব সত্যি বলেন, তাহলে এখনও টাকা পাচার চলছে, রিজার্ভ বাড়েনি তার প্রমাণ।
২. আর যদি বর্তমানে টাকা পাচার বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে তাদের আগের সব বক্তব্য মিথ্যাচার।
তাই এখন দরকার একটাই—সোজা করে বলুন, কোনটা সত্য? পাচার চলছে, নাকি আপনারা দেশের মানুষকে কেবল ব্যস্ত রেখেছেন হাওয়ায় ঘুড়ি ওড়াতে?
তবে নাটকের এখানেই শেষ নয়।
সপ্তাহখানেক আগে দেওয়া নতুন শ্বেতপত্রে আবার বলা হয়েছে পাচার হয়েছে ৫ লক্ষ কোটি টাকা! তবে আসুন একটু হিসাব করি—
৫ লক্ষ কোটি টাকা কি ২৫৬ বিলিয়ন ডলার হয়? না হয়না সেটা, এটা হয় ৪২ বিলিয়ন। তাহলে ৮ মাসের ভিতরে দাবি 256 বিলিয়ন ডলার থেকে মাত্র ৪২ বিলিয়ন ডলার এ চলে আসছে?
অথচ ২০০৮ সালে যখন শেখ হাসিনা সরকারে আসেন, তখন বাংলাদেশের টোটাল জিডিপিই ছিল মাত্র ৭১ বিলিয়ন ডলার, আর রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়নেরও নিচে—মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন।
আজ সেই দেশ জিডিপি বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ৪৮০ বিলিয়নে, এবং করোনার আগমুহূর্তে রিজার্ভ পৌঁছে গিয়েছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলারে।
কিন্তু এখন বয়ান শুনলে মনে হয়, সব কিছুই হাওয়ায় উড়ে গেছে—মানেই নেই, কেবল পাচার আর পাচার!
এত চাপাবাজি করলে সমস্যা একটাই হয়—একসময় বেলুন ফেটে যায়। হাওয়া উড়ে গেলে বেলুন নিচে পড়ে যায়।
আপনারা বলছেন ২৫৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে—কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাহলে কি দিয়ে দেশের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ১০০টি ইকোনমিক জোন, হাজার হাজার নতুন ব্যবসা, হাসপাতাল, কারখানা সব তৈরি হলো?
যদি সত্যি ২৫৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যেত, তাহলে তো দেশের অর্থনীতি এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমতুল্য হয়ে যেত!
বাস্তবতা বলছে অন্য কথা, আর আপনারা শোনাচ্ছেন আরেকটা রূপকথা।
শেষ কথা একটাই—
মানুষ এখন আগের মতো গিলছে না এসব কথা।
চাপাবাজি করলে হাততালি নয়, এখন লোকে হাসে—হাহা করে, মিম বানায়।
তাই এখনো সময় আছে, গল্প নয়, কাজের প্রমাণ দিন। নয়তো যা সম্মান ছিল, তাও যাবে।
