নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা। ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৫।
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য মিছিল ও সমাবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই ‘প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়,
“বিরোধী দল যাতে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।”
এর আগে, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের কাছে সতর্কতা পাঠায় যে কিছু বিরোধী নেতা ‘পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির’ চেষ্টা করতে পারেন। এই তথ্যের পরপরই রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা রাজপথে নামার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু প্রশাসনিক বাধার কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন,
“সরকার মূলত বিরোধী কণ্ঠরোধ করতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। এটি পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক।”
সরকারি মহলের ভাষ্য, কোনো দলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, বরং যে কেউ আইন ভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে যথেষ্ট সংবেদনশীল। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে সামনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
