বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মসমর্পণ এখন বাস্তব। আইএমএফের শর্ত মানতে না পারায় ঋণের কিস্তি আটকে গেছে। ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং কর ব্যবস্থার বৈষম্য—সব মিলে প্রশ্ন উঠেছে: সত্যিই কি আমরা স্বাধীন?
🗓 প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার
✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মসমর্পণ এখন কেবল একটি বিতর্ক নয়, বরং একটি বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যখন বলে, “তোমরা শর্ত পূরণ করোনি, তাই ঋণের কিস্তি দেওয়া হবে না,” তখন তা বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর একপ্রকার চরম অবমাননার রায় হয়ে দাঁড়ায়। এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক সংকেত নয়—এটি জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক ভেঙে পড়ার প্রতিধ্বনি।
আইএমএফ শর্ত মানা হয়নি, তাই থেমে গেল ঋণ
ঢাকায় আইএমএফ-এর ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল সরকারের দেওয়া কাগজপত্র দেখে বলেছে— বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মসমর্পণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শর্ত ছিল চারটি:
- বাজারভিত্তিক বিনিময় হার
- কর সংস্কার
- ভর্তুকি কমানো
- ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা
কিন্তু সরকার এই চারটিতেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভর্তুকি কমে, দুর্নীতি বাড়ে
ভর্তুকি কাটছাঁট করা হয় কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে, অথচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের নামে অপচয়, লুটপাট অব্যাহত। এ এক ধরনের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মসমর্পণ, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়, আর ক্ষমতাবানরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
খেলাপি ঋণ এখন আর ব্যর্থতা নয়, এটি একটি কাঠামোগত দুর্নীতি। ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি এখন ব্যাংক খাতের নিত্যচিত্র। সংস্কারের নামে চলছে দায়সারা ‘গাইডলাইন’। এটাও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মসমর্পণ-এর এক নির্মম দৃষ্টান্ত।
সার-সংক্ষেপ
- IMF ঋণের কিস্তি আটকে দিয়েছে
- সরকার বাস্তব সংস্কারে ব্যর্থ
- জনগণ ভোগান্তিতে, ধনীরা বহাল তবীয়তে
- রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত চলে বিদেশি নির্দেশনায়।
